দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বিরামপুরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে শশুর বাড়িতে আসায় শশুর বাড়িসহ এলাকার চারটি বাড়ি লকডাউন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। শরীরে করোনা উপসর্গ নিয়ে জামাই শ্বশুরবাড়িতে আসার করোনা আতঙ্কে বউয়ের বড়ভাই তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছেন। গ্রামবাসী জামাইকে গ্রাম থেকে চলে যেতে বললে তাতে পাত্তা দেননি শ্বশুর।

এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে উপজেলার ময়ামারী গ্রামের মোজাহার আলীর বাড়িতে যান সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহশিয়া তাবাসসুম ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমেেপ্লক্সের একটি মেডিকেল টিম। মেডিকেল টিম রোগীর শরীরে করোনা সন্দেহে নমুনা (ন্যাজাল সোয়াব) সংগ্রহ করেন এবং পরে উপজেলা প্রশাসন বাড়িটি লকডাউন ঘোষণা করেন ।

বাড়ির মালিক (শ্বশুর) মোজাহার আলী জানান, “জামাই গোলাম আজম (৪০) উপজেলার ঝগড়ুপাড়া গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে। সে নারায়ণগঞ্জের একটি টেক্সাইল কারখানায় কাজ করে। সোমবার রাত ২টায় সে শরীরে জ্বর, সর্দিকাশি ও গলাব্যথা নিয়ে আমার বাড়িতে আসে। ককয়েকদিন আগে জামাইয়ের হার্নিয়া অপারেশন হয়েছে।”

বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান হোসেন মেহেদী জানান, রোগীর শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কিছু উপসর্গ থাকায় তা করোনাভাইরাস কিনা এটি নিশ্চিত হতেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং নমুনাটি পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাড়ির লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোগীর শরীরের নমুনার চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত ওই বাড়ির দরজার সামনে স্থানীয় প্রশাসনের দেয়া ‘লাল পতাকা’ টাঙিয়ে লকডাউন রাখা হবে। একইভাবে উপজেলার আরও কয়েকটি স্থান থেকে করোনা সন্দেহে ৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য