সিরাজুল ইসলাম বিজয়, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধিঃ রংপুরের তারাগঞ্জে তিস্তা ব্যারেজ সেচ ক্যানেলের পাড় ধসে প্লাবিত হয়েছে প্রায় দশটি গ্রাম। এতে পানির নিচে তলিয়ে গেছে গ্রামের রাস্তাঘাট ঘরবাড়িসহ প্রায় ১০০০ হেক্টর ফসলের আবাদি জমি।

তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নে তিস্তা ব্যারেজ সেচ ক্যানেলের পাড় ধসে অনন্তপুর, পলাশবাড়ী, মিস্ত্রিপাড়া, দক্ষিণপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, হাজিপাড়াসহ প্রায় দশটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাড় ধসে যাবার পর থেকে পানির তীব্র স্রোতে গ্রামের ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট আবাদি ফসলের জমি প্লাবিত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

কুর্শা ইউপি চেয়ারম্যান আফজালুল হক সরকার বলেন, তার নিজের বাড়িসহ গ্রামের অসংখ্য ঘরবাড়িতে এক হাটু পানি উঠেছে। রাস্তাঘাট ছোট ব্রীজ ও কালভার্ট পানির স্রোতে ধসে যাবার উপক্রম হয়েছে। এখন পর্যন্ত (দুপুর ১২টা) পানির স্রোত বন্ধ হয়নি। এতে অন্তত নিচু এলাকাগুলোর দশটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দাবি, ক্যানেলের পাড়ের নিচের দিকে মাটি নরম হওয়ায় ইঁদুর গর্ত করায় পাড় ধসে যাবার ঘটনাটি ঘটেছে। এর আগে ওই সেচ ক্যানেলের পাড়ের নিচের অংশে ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছিল। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ছিলাম কিন্তু ব্যবস্তা নিতে দেড়ি হওয়ায় সেচ ক্যানেলের পাড় ধসে দশটি গ্রামের প্রায় ১০০০ হেক্টর আবাদি জমি, দুটি ইটভাটা, মৎস্যখামার ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। পাড় ধসে গ্রাম প্লাবিত হবার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

তারাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অশোক কুমার বলেন, তিস্তা সেচ ক্যানেল পাড়ের ১০০ মিটারের মত অংশ ধসে গেছে। এতে নিচু এলাকার জমিসহ অন্তত ১০০০ হেক্টর কৃষি জমিতে পানি প্লাবিত হয়েছে। তবে সকালের মতো এখন (দুপুর ১২টা) স্রোত নেই। দুই একদিন পর বোঝা যাবে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।

তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, কুর্শা ইউনিয়নের অন্ততপুর সেচ ক্যানেলের একাংশের পাড় ধসে কয়েকটি পাড়া প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৩০০ একর কৃষি জমি প্লাবিত হয়েছে । কৃষক ও মৎস্য চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে সকালের মতো এখন পানির স্রোত কিছুটা কমেছে। সন্ধ্যা নাগাদ পানি নেমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিরাজুল ইসলাম বিজয়

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য