দিনাজপুর সংবাদাতাঃ সারা বিশ্ব থমকে গেছে,বন্ধ হয়ে গেছে অর্থনীতির চাকা। দোকানপাট, ব্যাবসা বানিজ্্যবন্ধ, ঘুরছেনা আর শিল্প-কলকারখানা ও গাড়ীর চাকা। করোনা নামক এই প্রানঘাতি ভাইরাসের সংক্রমণের কারনে সারা বিশ্ব আজ স্তব্ধ । বাংলাদেশেও দেখা দিয়েছে,এই ভাইরাসের প্রার্দুভাব,বাড়ছে ঝুকির আশংকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার হার্ডলাইনে,সব ধরনের জনসমাগম বন্ধ রাখার জন্য গণপরিবহন,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এমন বাস্তবতায় ঘর বন্দী এখন মানুষ, সর্বস্তরের কর্মজীবী মানুষ এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার প্রথমে ২৬মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করলেও পরে তা বাড়িয়ে ১১এপ্রিল পর্যন্ত করায় কর্মস্থলে ফিরতে পারছেননা অনেকেই। নি¤œ আয়ের মানুষ ছুটছে ত্রাণের খোঁজে,এমন পরিস্থিতে মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের মানুষের মাঝে হচ্ছে চাপা কান্না। কর্মহীন হয়ে মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারেই নেই খাদ্যের যোগান,যা ছিল তাও শেষের পথে।

কর্মহীন হয়ে পড়ায় এসব মানুষের পক্ষে তাদের পরিবারের খাবার যোগাড় করা দুরর্বিসহ হয়ে পড়েছে। ফলে সরকার ঘোষিত লক-ডাউনে সবচেয়ে বেশী দিশেহারা মধ্যম আয়ের মধ্যবিত্ত মানুষগুলো। লোকলজ্জার কারনে কারো কাছে সাহায্য চাইতেও পারছেনা,পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। কোথাও মুখ ফুটে বলতেও পারছেননা তাদের সমস্যার কথা।

এদিকে নি¤œবিত্তদের সরকার সহয়তা করছে,অনেক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। খাদ্য বিতরণে নি¤œবিত্তরা মোটামুটি সুফল ভোগ করছেন। কিন্তু ভালো নেই মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলো লোকচক্ষুর ভয়ে তারা লাইনে দাঁড়িয়ে কোথাও ত্রাণ আনতে যেতে পারছেন না। আত্মসম্মানবোধ তাদের বাঁধা দেয়,ফলে ঘরের মধ্যে না খেয়ে থাকলেও বের হচ্ছেন না তারা। এক বুক কষ্ট নিয়েই জীবনের বাস্তবতার মোকাবেলা করছেন মধ্যবিত্ত পরিবার গুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,ফুলবাড়ী পৌর বাজারের কাপড়ের শোরুমে চাকুরী করেন এক ব্যক্তি,বেতন যা পান তাতে মোটামুটি তার সংসার চলে। কিন্তু করোনার প্রার্দূভাবের কারনে বর্তমানে শোরুম বন্ধ। এ অবস্থায় চিন্তায় তার কপাল কুচকে গেছে। কী করবেন,কী করা উচিৎ ভেবে উঠতে পারছেননা। সংসার চালাতে যুদ্ধ করতে হচ্ছে,চক্ষু লজ্জায় কারো কাছেই কষ্টগুলো প্রকাশ করতে পারছেননা।

একইভাবে পৌর বাজারের একজন ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী বলেন,নি¤œ বিত্তরা সরকারী ত্রাণ পাচ্ছে,বেসরকারী সহায়তা পাচ্ছে,কিন্তু মধ্যবিত্তের কি হবে? দোকান বন্ধ,ঘরে খাবার শেষ হয়ে আসছে। দুই একদিনের মধ্যেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপদে পড়তে হবে। আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠলেও দোকান খোলার সাথেই আছে ব্যাংক সুদের জ্বালা। ঠিক কি করবেন তা এই মুহূর্তে ভেবে কুল পাচ্ছেননা তিনি। অবস্থাদৃষ্টে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের কথা অন্যের উধাহরনদিয়ে তুলে ধরছেন মধ্যবিত্তদের কথা,কিন্তু তাতে কি! কেউ ফিরেও তাকাচ্ছেনা, তবুও সকল কষ্টের কথা চেপে রেখে কোনো রকমে কান্নাটাকে আড়াল করে লোকের সামনে হাসির অভিনয় করে যাচ্ছে তারা।

একজন বেসরকারী শিক্ষক জানিয়েছেন,পুরো মাস একটি মুদির দোকানে সে বাকিতে বাজার করে আসতেন,এক মাসের টাকা পরের মাসে বেতন তুলে দিতেন দোকানীকে, কিন্তু দোকান বন্ধ থাকায় আত্মীয়-স্বজনের কাছে দেনায় পড়েছেন। শেষমেষ আত্মীয় স্বজনরাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন । প্রচন্ড হতাশা নিয়ে একইভাবে এক এনজিও কর্মী বলেন, ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে কিছুই জানি না। স্বপ্ন ছিল একটি সুন্দর আগামী দিনের। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ করোনা নামক এক প্রাণঘাতী ভাইরাস ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে হয়তো খাবার জন্যই মরতে হবে।

এদিকে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম চৌধুরী জানিয়েছেন,করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া ১৮শ পরিবারকে এ পর্যন্ত সরকারীভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বেসরকারী উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান,করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি রোধে সরকার ঘোষিত লক-ডাউনের কারণে শ্রমজীবিদের পাশাপাশি পেশাজীবি মধ্যবিত্তদের একটি কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে। এই বাস্তবতা থেকে সরকার ইতিমধ্যে মধ্যবিত্তদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মধ্যবিত্তদের সম্মানের দিক বিবেচনা করেই সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন যদি কনো মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ যোগাযোগ করে তবে সম্মানের দিক বিবেচনা করে গোপনে তাদের বাড়ীতে সহায়তা পাঠিয়ে দেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য