দিনাজপুর সংবাদাতাঃ তুমি বরং কুকুর পোষ, প্রভুভক্ত খুনসুটিতে কাঁটবে তোমার নিবিড় সময়-রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর একটি কবিতার প্রথম দুটি চরণ। আসলে প্রাণীদের মধ্যে কুকুর খুবই প্রভুভক্ত। একথা আমরা সবাই জানি। মালিকের জন্যে জীবনও বিলিয়ে দিতে পারে এই প্রাণীটি। পৃথিবীতে এমন দৃষ্টান্ত একেবারে কম নেই। এসব কারণেই হয়তো কুকুরের প্রতি মানুষের একটি আজন্ম অকৃত্রিম ভালোবাসা রয়েছে। সেই ভালবাসা দেখিয়েছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার কৃতি সন্তান লিয়ন চৌধুরী।

খিচুরি রান্না করে দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন জায়গাসহ শহরে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে তিনি কুকুরদের খাওয়ার দিচ্ছেন।

করোনা ভাইরাসের আক্রমন থেকে রক্ষা পেতে সারদেশের ন্যায় দিনাজপুরেও অফিস আদালদ, কোট কাচারি দোকান পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাজার, হোটেল রেস্তোরা, বেকারীসহ সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। মানুষ করোনা থেকে রক্ষা পেতে ঘরে ঘরে অবস্তান করছে। আর এতে করে বেওয়ারীশ কুকুর গুলো খেতে পারছেনা। তারা অভুক্ত থেকে যাচ্ছে। অথচ এই কুকুর গুলোই উচ্ছিষ্ট খাওয়ার খেয়ে শহরকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখে। তাই মানুষের পাশাপাশি পরিবেশের রক্ষায় প্রাণীকুলও রক্ষা করা জরুরী।

এমন চিন্তা থেকেই মানুষের পাশাপাশি শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনাজপুর শহরে যেখানেই কুকুর দেখতে পেয়েছেন সেখানেই ওয়ানটাইম প্লেটে করে কুকুরকে খেতে দিচ্ছেন মাইেেফ্রস ওয়াটার টেক্সনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিনাজপুরের খানসামার সন্তান লিয়ন চৌধুরী। বিভিন্ন স্থানে রানানা করা খিচুরি কুকুরকে যখন খেতে দিচ্ছিলেন তখন মানুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। অনেকে বলছিলেন এখনো মানুষ আছে।

শহরের বাহাদুর বাজার লিলির মোড়ে কুকুরকে কাওয়ার দেয়ার সময় এটিএম বুথের গার্ড মকবুল হোসেন বলেন, আমার ৫১ বছর বয়সে এ ভাবে কাউকে কুকুরকে খেতে দিতে দেখিনি। তিনি বলেন বাজারের কুকুর গুলো না খেয়ে দূর্বল হয়ে পড়েছে। এ কাবার কিচুটা হলেও তাদের খিদা নিবারণ করবে।

স্বেচ্ছাসেবী লিয়ন চৌধুরী জানান, গত শুক্রবার যখন মানুসের মাঝে খাবার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছিলাম তখন কতগুলো কুকুর দৌড়ে ছুটে আসছিল খাবারের জন্য। তখন আমার মনে হয়েছে মানুষের মত এরাও ক্ষুদার্থ। চারিদিকে দোকানপাট ,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ্ কুকুর গুলো খাবার পাবে কথায়। আমি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেই কুকুর গুলোকেও মাঝে মাঝে খাবার দেব। আজ সেই কাজ শুরু করলাম।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য