-আজাদ জয়, সম্পাদক দিনাজপুরনিউজ

করোনাভাইরাসের মহামারি চলছে, সারাবিশ্বের মানুষ আতঙ্কগ্রস্থ। ভেবে দেখুন তো আপনি এমন কোন জায়গা দাঁড়ীয়ে চিৎকার করছেন যেখানে আপনার পাশের লোকটা আপনার চিৎকার শুনতে পাচ্ছে না। সেই জায়গায় আপনার চিৎকারের শব্দ পৌছানোর কোন মাধ্যম নাই। এমন কোন জায়গায় আমাদের জীবন ধারন করা কোন ভাবে সম্ভাব নয়। আমরা সামাজিক জীব, হাই হ্যালো, কুশল বিনিময়, সালাম আদাব, আত্মীয়তা, ঘোরাফেরা, হাসিঠাট্টা, গল্প আড্ডা আমাদের স্বভাব। এসবের জন্য আমরা যে মাধ্যমটির উপর নির্ভর করি তা হচ্ছে বাতাস। বাতাস শুধু তরঙ্গ মাধ্যম জন্য নয়, সবচেয়ে বড় কথা বাতাস ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।

ইতিহাসে দেখা জানা যায়, আগের যুগে যুদ্ধবাজ রাজা বাদশারা তাদের সৈন্যবাহিনী নিয়ে লোকালয় থেকে দুরে নির্দিষ্ট স্থানে যুদ্ধ করতো, তাদের হার জিত সেখানে নির্ধারিত হতো। সাধারন মানুষ যুদ্ধবিগ্রহ থেকে নিরাপদে থাকতো। কিন্তু আধুনিক যুগের নতুন রণকৌশলে রাষ্ট্র প্রধানরা সুরক্ষিত স্থানে থাকে যুদ্ধ পরিচালন করে আর ক্ষতিগ্রস্থ হয় নিরিহ সাধারন জনগন। এখন যুদ্ধ হয় লোকালয়ে, সাধারন নিরিহ নিরস্ত্র মানুষ মরা যায় হাজারে হাজারে। আধুনিক রণকৌশলে প্রশিক্ষিত যোদ্ধা রণসাজে সেজে লোকালয়ে ঢুকে নিরিহ নিরস্ত্র মানুষ হত্যা করে! তারা নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ বিবেচনা করে না। এখন সন্ত্রাসী আর সেনাবাহিনীর মধ্যে পার্থক্য কই। গত বিশ পচিশ বছর ধরে বিশ্বব্যপি এই নোংরা রণকৌশল দেখে আসছি।

আজ করোনা ভাইরাস নিয়ে আমরা আতঙ্কিত। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীতে এপর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশ হাজারের মত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মানব জাতির অস্তিত্বকে প্রশ্নের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে এই সংক্রামন। রুজি রোজগারের প্রাত্যহিক কাজকর্ম বন্ধ করে প্রাণ রক্ষার্থে ঘরে বন্ধ হয়ে থাকতে হচ্ছে। বিশ্বের বড় বড় দেশ গুলো হিমসিম খাচ্ছে করোনা ভাইরাস সংক্রামন নিয়ত্রনে। অনেক দেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে চেষ্টা করছে এর প্রতিষেধক আবিস্কার করার জন্য। আমরা সকলে চাই যেন অতিদ্রুত তারা সফল হয়, এবং এই অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর হাত থেকে মানব জাতি রক্ষা পায়।

তবে এবারের হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু থেকে কি মানব জাতি ভাল কিছুর শিক্ষা নেবে, নাকি এরচেয়ে আরো ভয়ংকর এবং এর চেয়েও মারাত্মক নতুন কিছু তৈরিতে মক্ত হবে। করোনা ভাইরাস প্রাকৃতিক সংক্রামন নয়, মানষ কতৃক নির্মিত একটি জৈবিক হাতিয়ার। যেটা কোন ভাবে ল্যাবরেটরি থেকে কোন মাধ্যমে বেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সারা পৃথিবী জুড়ে। কোন দেশ এই ভাইরাস তৈরি করেছে তা নিয়ে অনেক কথা শোনা গেলেও, এখনও কোন দেশ এর দায় স্বীকার করেনি। কোন প্রতিষেধক না থাকায় করোনা তার ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে আপন গতিতে।

আজ হোক কাল হোক করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রনের একটা না একটা পথ বের করে ফেলবে বিজ্ঞানীরা। কিন্তু তারপরও আমরা কতটুকু নিরাপদ! ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, শক্তিশালি বড় বড় রাষ্ট্র গুলোর ক্ষমতা প্রদর্শনের পায়তারায় সময়ে সময়ে হাজার হাজার মানুষের জীবন হুমকির মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সভ্যতার শুরু থেকে মানুষ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানে তীর ধনুক, তলোয়ার থেকে বারুদ ও কামানের গোলা, তারপর রকেট, মিসাইল, ক্ষেপণাস্ত্র, পরমানু বোমা ব্যবহার করেছে একে অন্যকে পরাস্থ করতে। আর বর্তমানে কাজ চলছে রাসায়নিক এবং জৈবিক হাতিয়ার তৈরির গোপন গবেষনা। যত ভয়ঙ্কর হাতিয়ার তৈরি হচ্ছে, মানব জাতির নিশ্চিহ্ন হওয়ার সম্ভাবনা ততটাই নিশ্চিত হচ্ছে।

কোন একদিন কোন এক রাষ্ট্র তাদের ক্ষমতার প্রদর্শনে এমনই কোন এক অস্ত্র প্রয়োগ করবে যা আমাদের পৃথিবীর বায়ু মন্ডলকে ধ্বংস করে ফেলবে। বিশুদ্ধ বাতাসের অভাবে কোটি কোটি মানুষ মারা যাবে। সুর্যের আলোর স্পর্শে শরীরের চামড়া ঝোলসে যাবে। পৃথিবী তার খাদ্যশস্য উৎপাদন ক্ষমতা হারাবে, খাদ্য ও পানির সমস্যা মারাত্মক ভাবে দেখা দেবে। বড় বড় ধর্ম বিশারদরা এটাকে জাজমেন্টডে বা কেয়ামত আখ্যা দিয়ে দায় মুক্ত হবে। আজ যেমন করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষাপেতে পিপিই’র প্রয়োজন হচ্ছে, তখন হয়তো নভচারিদের জন্য তৈরি বিশেষ পোষাকের প্রয়োজন হবে মানুষের বাঁচার জন্য। আপনাকে আমাকে খাবার এবং পানির জন্য লাইনে দাঁড়ীয়ে অপেক্ষা করতে হবে। প্রচন্ড তৃষ্ণায় চিৎকার করে পানি চাইলেও পাশের জন শুনতে পাবে না আপনার আর্তনাদ। আমরা ধিরে ধিরে সেই ভবিষতের দিকে ধাবিত হচ্ছি।

২০২০ সালে এসে আমরা টেকনোলজি যুগের ক্রান্তি লগ্নে দাঁড়ীয়ে আছি। অত্যন্ত আধুনিক আমাদের বর্তমান জীবন যাত্রা, চারিদিকে টেকনোলজির জয় জয়কার। আধুনিক বিজ্ঞান ও উন্নত টেকনোলোজি ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে যেমন সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্য ময় করেছে, তেমনি করছে আতঙ্কিত। আধুনিক মরনাস্ত্রে আবিস্কার ঠেলে দিচ্ছে মানব জাতিকে বিলুপ্তির দারপ্রান্তে। আমরা কি কখনও সেরকম ভবিষৎ চিন্তা করেছি। করোনা ভাইরাসের মত মানব নির্মিত একটার পর একটা বিপদ আমাদের অস্তিত্বের পেছনে লেগে রয়েছে। আগামীতে করোনা ভাইরাসের মত জৈবিক অস্ত্রে হাত থেকে মানব জাতি মুক্তি পেলেও, আসলে আমরা কতটুকু নিরাপদ?

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য