কিছুদিন আগেও যুক্তরাষ্ট্রে সবচাইতে আলোচিত বিষয় ছিলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন। কিন্তু সে সব আলোচনা পেছনে ফেলে এখন সবাই ব্যস্ত করোনা ভাইরাস নিয়ে। আর এই সুযোগে সকলের অলক্ষ্যে মার্কিন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে চাকরীচ্যুত করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এজেন্সি ফ্রান্স জানায়, এই গোয়েন্দা কর্মকর্তার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

মার্কিন গোয়েন্দা গোষ্ঠীর ইন্সপেক্টর জেনারেল মিখায়েল এটকিনসন গত বছর হঠাৎ করেই বেশ কিছু তথ্য প্রদান করেন যার ভিত্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার নিজের জবানবন্দীও দেন মিখায়েল। পরবর্তীতে অভিশংসন প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু বিষয়টি এত সহজে ভুলছেন না ট্রাম্প। আর সে কারণেই ৩ এপ্রিল তিনি জানান, মিখায়েল এটকিনসনের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না তিনি।

অবশ্য ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিয়েও বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের অনেকেই বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই দুঃসময়ে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে হঠাৎ করে পরিবর্তনের কোন যৌক্তিকতা নেই। বরং তা সার্বিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

কিন্তু বরাবরের মতই সমালোচকদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলা ট্রাম্প বিষয়টিকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না।

এর আগে মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত চিফ অব স্টাফ (প্রধান কর্মকর্তা) মিক মুলভেনিকে পদ থেকে অব্যাহতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের অভিশংসনের বিচার চলার সময় বিতর্কিত ছিলেন মার্কিন ভারপ্রাপ্ত চিফ অব স্টাফ মিক মুলভেনি।

২০১৮ সালের জুলাই মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির একটি ফোনালাপ ফাঁসের পর থেকে বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ উঠে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর জন্য জেলেনস্কিকে চাপ দেন ট্রাম্প। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলে সেটাতেও বাঁধা প্রদান করেন ট্রাম্প। এই দুই অভিযোগ প্রমাণিত হবার পর মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হন ট্রাম্প। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১০০ আসনের সিনেটে ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন। কিন্তু সিনেটে ডেমোক্র্যাট সিনেটর মাত্র ৪৭। আর রিপাবলিকানরা ৫৩ হওয়ায় ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত খালাস পেয়ে যান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য