মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ করোনার প্রকোপের ডামাডোলের মধ্যেই সড়কের সরকারী গাছ কাটার ধুম পড়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নে। স্থানীয় প্রভাবশালী হুকুমেই চলছে গাছ নিধনের কাজ। এ নিয়ে সাধারণ গ্রামবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলেও বিন্দু মাত্র তোয়াক্কা নেই গাছ কাটার সাথে সংশ্লিষ্টদের। ফলে দিন দিন গাছ কাটা বেড়েই চলেছে এ গ্রামীন জনপদে। দেখার যেন কেউ নেই।

জানা যায়, ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের তেলিপাড়ায় গত বুধবার সকালে সড়কের পাশের একটি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটে প্রভাবশালী’র লোকজন। প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের এ গাছটি মূলতঃ বনবিভাগের। এর আগে একই এলাকার তেতুলতলার একটি আকাশমনি গাছ কাটে একই ব্যক্তি। এটিও বনবিভাগের বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। এসময় তার সহযোগি ছিল এলাকার গাছ ব্যবসায়ী।

ইতোপূর্বেও ইউনিয়নের কবিরাজপাড়ায় আরেক প্রভাবশালী একাই কেটে নেয় প্রায় ১৫টি ইউক্যালিপটাস গাছ। তাছাড়া অপর ব্যক্তি কাটে ১২টি গাছ। এগুলো সবই বনবিভাগের হলেও সে বিষয়ে উপকারভোগীদের কোন রকম রেজুলেশন বা বনবিভাগের অনুমতি ছাড়াই কাটা হয়। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান অবগত থাকলেও নিরবতা পালন করে। ফলে একের পর এক রাস্তার পাশের গাছ কেটে সাবার করছে প্রভাবশালীরা। এ পর্যন্ত ওই ইউনিয়নে প্রায় ২ লাখ টাকার গাছ কেটে বিক্রি করে নিজের পকেটে ঢুকিয়েছে গাছ খেকোরা।

রাস্তার সরকারী গাছ কাটার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে জানায়, চেয়ারম্যানের হুকুমেই গাছ কাটা হয়েছে। এগাছগুলো স্থানীয় ত্রানের সরকারী বাড়ি তৈরীতে ব্যবহৃত হবে।

ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। তবে যদি সড়কের গাছ কাটা হয় তাহলে অবশ্যই বনবিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে এবং উপকারভোগীদের সমিতি কর্তৃক রেজুলেশন করেই কাটা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমার কিছুই করার নাই।

সৈয়দপুর সামাজিক বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সায়খুল ইসলাম জানান, গাছ কাটার বিষয়ে আমার কাছ থেকে কোন প্রকার অনুমতি নেওয়া হয়নি। যদি সড়কের উপর লাগানো বনবিভাগের গাছ কাটা হয়ে থাকে তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য