দিনাজপুর সংবাদাতাঃ ক্ষুদা আর তিন বছরের শিশুর কান্না যে ঘরে থাকতে পারছি না , কষ্ট করে চার দিন ঘরে বসে আছি যা ছিল তা শেষ তিন বছরের শিশুর ক্ষুদার কান্না যেন আর থামতেই চায় না। বাবা হয়ে আর ঘরে বসে থাকতে পারছিনা তাই বাধ্য হয়ে অন্যের দোকান থেকে ৫০ টি মাস্ক বাকী করে নিয়ে বিক্রির উদ্দ্যেশ্যে বাড়ী থেকে বাই সাইকেলের সাথে টাঙ্গীয়ে রাস্তায় বের হলাম। এ কথাগুলি বলছে দিনাজপুরের পশ্চিম বালুডাঙ্গা হঠাৎ পাড়ার মাসুদ রানা,র।

মাসুদ রানা (৩০) দিনাজপুর বাহাদুর বাজারের একটি কাপড়ের দোকানের ৬ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী। গত ২৬ মার্চ থেকে সরকার ঘোষিত করোনা ভাইরাসের কারনে কাপড়ের দোকানপাট বন্ধ হয়েছে। যে কাপড়ের দোকানে কাজ করি তার শর্তই ছিল নো ওয়ার্ক নো পেমেন্ট এই শর্তের কাপড় দোকান কর্মচারী এখন মাস্ক বিক্রির ভেরিওয়ালা।

মাসুন আরোও বলেন , সকালে ৫০ টি মাস্ক বাই সাইকেলের সাথে বেধে আল্লাহর নাম মুখে নিয়ে বের হয়েছি। দুপুর ১ টা পর্যন্ত ১৫০ টাকার মাস্ক বিক্রি করেছি। এখন তেমন আর মাস্ক বিক্রি হয় না। কারন অনেকের নিকট দুই তিন পর্যন্ত মাস্ক রয়েছে। মাস্ক বিক্রির এই ১৫০ টাকা মহাজনকে কি দেব আর বাড়ীর জন্য কি খবচ করব। বউ বলেছে যে চাল নিয়ে না গেলে দুপুরের খাওয়া হবে না এমন চিন্তায় অস্থির হয়ে নীমতলা প্রেস ক্লাবের সামনেই বসে পড়েন মাসুদ রানা। এই করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারনে আমাদের এই অবস্থা। এই অবস্থা আর কত দিন থাকবে প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেন মাসুদ রানা ।

এই মাসুদ রানার মত দিনাজপুরের নয়নপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ। তার বয়স ৭৫ বছর। তিনি এই বয়সে রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন। সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে দিনাজপুর জুয়েলারী মার্কেট দেখা হল। কথা হয় তার সাথে , সে জানান সকালে রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। সকাল থেকে ৪০ টাকার ভাড়া মেরেছি। বাড়ীতে ৪ জন খানেওয়ালা। বর্তমান বাজারে ৪০ টাকায় কি হবে। শরীর আর চলে না। বাড়ীতে আমার স্বামী পরিত্যাক্ত মেয়ে তার আবার ছোট ছোট দুই ছেলে মেয়ে আমি আর আমার স্ত্রী সবাই এক সাথে খাই। এই করোনা কারনে নাকি মানুষজন বের হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে পুলিশ আমাদেরকে বাড়ী থাকতে বলে। এখন তো হারা ( আমরা ) না খাইয়ে এমনিতেই মারা যাচ্ছি। সরকার হামাক (আমাকে) তো কিছু দেয় নাই।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম বলেন , দিনাজপুর জেলার ১৩ টি উপজেলা ও ৯ টি পৌর সভার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মেয়রগনের মাধ্যমে ৩৫৮ মেঃ টন চাল ও নগদ ১৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা প্রেরন করা হয়েছে। অসহায় দুস্থ ও কর্মহীন হয়ে পড়েছে এমন মানুষের বাড়ীতে বাড়ীতে চাল, ডাল, তেল পৌছে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের নিকট আরোও বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই পুনরায় আরোও বিতারন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য