মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মাস্ক বিক্রি করে সংসার চালানো শিশু শিক্ষার্থীর হিমুর পাশে দাঁড়িয়েছেন পৌর মেয়র অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন সরকার।

করোনার প্রভাবে বাবার কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের খাবার জোটাতে ঝুঁকির মধ্যেও মাস্ক বিক্রি করে অর্থ উপার্র্জনের খবর দিনাজপুর নিউজে প্রকাশের পর তাৎক্ষনিক প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অসহায় ওই পরিবারটির দিকে। এতে গত কয়েকদিন থেকে খাবার সংকটে থাকা শিশুটির পরিবারে আনন্দের ছোয়া লেগেছে।

সৈয়দপুর শহরের নয়াবাজার মহল্লার রং মিস্ত্রি মুন্না করোনার কারণে সর্বত্র লকডাউন বিরাজ করায় কর্মহীন হয়ে পড়েন। গত প্রায় এক সপ্তাহ থেকে কোন কাজ না থাকায় দিন আনে দিন খাওয়া পরিবারের ৫ সদস্যের সংসার নির্বাহ করা চরম কষ্টকর হয়ে পড়েছিল।

এমতাবস্থায় তার স্কুল পড়–য়া মেয়ে হিমু আক্তার স্থানীয়ভাবে তৈরী করা মাস্ক নিয়ে শহরের শহীদ তুলশীরাম সড়কের সিঙ্গার শো-রুমের সামনে বিক্রির জন্য দোকান পেতে বসেন। গত ৩দিন যাবত এই মাস্ক বিক্রি করেই গড়ে দেড়শ’ থেকে ২ শ’ টাকা আয়ের অর্র্থ দিয়েই চলছিল তাদের সংসার।

পর পর দুইদিন রাস্তার উপর এভাবে শিশু শিক্ষার্র্থী কর্তৃক মাস্ক বিক্রি করার দৃশ্য দেখে কৌতুহল জাগে স্থানীয় দৈনিক ঢাকা টাইমস্ ও ফটো বাংলা এজেন্সির সাংবাদিক মোঃ জাকির হোসেনের। জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে শুধুমাত্র সংসার চালানোর জন্যই শিশুটি এ ব্যবসা শুরু করেছে।

ফলে এ নিয়ে তিনি কথা বলেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমেদ, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোখছেদুল মোমিন ও পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এরশাদ হোসেন পাপ্পুর সাথে। সকলে সরকারী ত্রাণ আসছে, তালিকা হচ্ছে মর্মে মন্তব্য করে দুই একদিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তাকে।

এমতাবস্থায় তিনি এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রেরণ করেন তার সংবাদ মাধ্যমে। যা ৩০ মার্চ প্রকাশ পায় ফটো বাংলা এজেন্সি ও ঢাকা টাইম্স পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে। যা ফেসবুকে শেয়ার করার মাধ্যমে দৃষ্টিগোচর হয় পৌর মেয়র অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন সরকারের। তিনি ঢাকায় ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায়ই সাংবাদিক জাকিরের মাধ্যমেই ওই শিশুটির পরিবারকে সহায়তা করতে সচেষ্ট হন। তাৎক্ষনিক হিমু ও তার বাবাকে বাজারে নিয়ে গিয়ে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি মসুর ডাল, আধা কেজি তেল, ১ কেজি লবন কিনে দেন সাংবাদিকের মাধ্যমে।

এই সাহায্য পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে হিমুর বাবা মুন্না জানান, এমন দূর্যোগের সময়ে যে সাহায্য পেয়েছি তা কখনই ভোলার মত নয়। গত কয়েকদিন খুবই দুঃসময় পার করেছি। আল্লাহ যেন মেয়র আমজাদ হোসেন সরকারকে ভালো রাখেন এবং বার বার আমাদের মত গরীব অসহায় মানুষের সহযোগিতা করার তৌফিক দান করুন।

শিশু হিমু বলে, আমরা কতটা কষ্টে পড়ে মাস্ক বিক্রি করতে গিয়েছিলাম তা একমাত্র মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার অনুধাবন করতে পেরেছেন। তাই তিনি জানা মাত্রই সাহায্য করেছেন। তার মত মানুষরই জনপ্রতিনিধি হওয়ার অধিকার রয়েছে। যাতে কোন মানুষই অসহায়ত্বের সময় সহায় হয়ে তিনি পাশে দাড়াতে পারেন।

পৌর মেয়র অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন সরকার জানান, সংবাদটি আমাকে চরমভাবে ব্যথিত করেছে। দুর্যোগের এমন মূহুর্তে আমি সৈয়দপুরবাসীর পাশে নেই বলে হয়তো তারা আমাকে তাদের প্রয়োজন জানাতে পারছেন না। কিন্তু যে কোন ভাবে আমার কাছে কোন খবর আসা মাত্রই আমি তার সুরাহা করার চেষ্টা করি।

পৌর পরিষদও নিজস্ব তহবিল থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া সরকারীভাবেও ত্রান সহায়তা এসেছে। যদিও তা খুবই অপ্রতুল। তথাপি সেগুলো যথাযথভাবে বন্টন করার মাধ্যমে গরীব মানুষদেরকে এই মুহুর্তে সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করাইতো জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। আশা করি এখনই ওই শিশুটিকে আর মাস্ক বিক্রি করতে হবেনা। আগামীতে আরও সাহায্য করা হবে তাকে সহ সকল অসহায় ও গরীব মানুষদের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য