রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে করোনা ভাইরাস সনাক্তে পিসিআর মেশিন স্থাপনের কাজ চলছে। আগামী সোমবার নাগাদ তা চালু হতে পারে। তবে রংপুরে এখনও কিট এসে পৌঁছেনি। রমেকের অধ্যক্ষ নুরুন্নবী লাইজু জানান, তিন থেকে চার দিনের মধ্যে কিট এসে পড়বে। আমরা যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।

তিনি জানান, পিসিআর মেশিনের মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে হলে রোগীর রক্ত, ঘাম ও কফ পরীক্ষা করা হবে। কলেজের মাইক্রো বায়োলজি বিভাগের তত্ববধানে এই মেশিন পরিচালিত হবে। এজন্য দুজন চিকিৎসক ও দুজন টেকনিশিয়ানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের পরীক্ষা করবে।

এদিকে রংপুরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন সেনা সদস্যরা। নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে ফেঁসো মাস্ক বিতরণ ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে উদ্বুদ্ধ করছেন তারা। সঙ্গে জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো হচ্ছে। শনিবার দুপুরে রংপুর নগরীর প্রধান প্রধান সড়কসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকাতে টহল দিয়েছে সেনা সদস্যরা। এসময় রাস্তায় ঘোরাফেরা করা লোকজনকে ঘরে থাকতে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

অপরদিকে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার তত্বাবধায়নে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সরকারী ছুটির দিন শুক্রবারও তারা মাঠে কাজ করেছে। গত ১৯ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে নগরীর ৩৩ টি ওয়ার্ডে করোনা প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম। কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের সাথে সমন্বয় করে সিটি কর্পোরেশনের ১৫০ জন জনবল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাঠে কাজ করছে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও পয়েন্ট ২টি লেগ ও ৭৫ টি হ্যান্ড স্প্রে মেশিন দিয়ে ছিটানো হচ্ছে জীবাণুনাশক। ২টি পানিবাহী গাড়ি প্রতিদিন একাধিকবার নগরীর প্রধান সড়কে পানি ছিটাচ্ছে।

রংপুর সিভিল সার্জন ডা. হিরন্ব কুমার রায় সাংবাদিকদের জানান, সচেতনতামূলক কার্যক্রমে হোম কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা কমেছে। আগে ছিল ২৫০ জনের ওপর। তা কমে এসেছে ১৪৭ জনে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য