দিনাজপুর সংবাদাতাঃ “আপনারা ঘরে থাকুন,আমরা সংবাদ পৌঁছে দিবো” এই প্রত্যয় নিয়ে প্রাণঘাতি করোনাভাইসরাস পরিস্থিতিতেও ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে কাজ করে যাচ্ছেন দিনাজপুরের সাংবাদিকরা। অথচ, নেই তাদের কোন সুরক্ষা ব্যবস্থা।

ঝুকি নিয়ে প্রতিনিয়ত সংবাদ সংগ্রহ করে চলেছে দিনাজপুরের হিলি বন্দরের কর্মরত সাংবাদিকরা। নেই কোন তাদের সুরক্ষা পোষাক। বৈশিক বিস্তার করা প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের যে পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুমেন্ট (পিপিই) প্রয়োজন তাতে কেউ কারো নজর,উদ্যোগ বা মাথাব্যাথা।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি,হিলি ও বিরল স্থল বন্দর,বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি,তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র,মধ্যপাড়া কঠিন শীলা প্রকল্পে বিদেশীদের অবস্থান ও সীমান্ত বেষ্টিত এ জেলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ খবর সংগ্রহ করতে হচ্ছে সাংবাদিকদের। করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে, তাই ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি এবং এক জনগোষ্ঠী থেকে অন্য জনগোষ্ঠীতে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রন্ত সন্দেহে জেলায় এখন প্রায় চার শতাধিক হোম কোয়ারেন্টিন এবং একশিশুসহ দু’জন আইসোলিউশনে রয়েছে।

বিদেশ থেকে ফেরত ৩ হাজার ২২ জন প্রবাসীর মধ্যে এখনও অনেকে হোম কোয়ারেন্টিনের বাইরে রয়েছেন। আত্মগোপন করা প্রবাসীদের স্থানীয় জেলা প্রশাসন,স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ তাদের খুঁজছেন। “হাসপাতালে রোগি আসছে,চিকিৎসক নেই” এমনও রিপোর্ট করছেন দিনাজপুরের সাংবাদিকরা।

এ প্রান্ত থেকে ওপান্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে ছুঁটছেন সাংবাদিকরা। সারা দেশ যখন হোম কোয়ারেন্টিনে তখন তারা ঘরে সংবাদ পৌছে দিচ্ছেন। দেশবাসী ওই সংবাদ গণমাধ্যমে পড়ে বা দেখে ঘরে সময় পাড় করছেন। ঘরে বসেই জানকে পারছেন,দেশ-বিদেশের সব পরিস্থিতি।

যদি সাংবাদিকরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়,তাহলে শুধু ওই সাংবাদিক ও তার পরিবারের সদস্যরাই নয়, দেশব্যাপী আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে করোনাভাইরাসের। তাই, সাংবাদিকদের নিয়ে বিদ্রুপ মন্তব্য বা নিশ্চুপ থাকার সময়ও নেই আর। অনেক সাংবাদিক খেয়ে না খেয়ে ছুঁটছেন সংবাদ সংগ্রহে। ঘুম,খাওয়া হারাম করে,জীবনের ঝুকি নিয়ে করছেন,অক্লান্ত পরিশ্রম এ দূর্যোগ মোকাবেলায়।

যদিও করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ দিতে আইনজীবী মো. জে. আর. খান রবিন জনস্বার্থে হাইকোর্টে ২৩ মার্চ রিট দায়ের করেন। ওই দায়ের করা রিটে হাইকোর্ট সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ দিতে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দিয়েছেন। কিন্তু, তারপরও প্রাণঘাতি করোনাভাইসরাস পরিস্থিতিতেও সুরক্ষা ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে কাজ করে যাচ্ছেন দিনাজপুরের সাংবাদিকরা।

অথচ, এখনো নেই তাদের কোন সুরক্ষা ব্যবস্থা। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের যে পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুমেন্ট (পিপিই) প্রয়োজন তাতে কেউ কারো নজর,উ্েদ্যাগ বা মাথাব্যাথা ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য