দিনাজপুরে সংবাদাতাঃ বিরলে পুলিশের গুলিতে শ্রমিক হত্যার ঘটনায় এককভাবে রাস্তায় দাড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই শিক্ষার্থী। করোনা পরিস্থিতিতে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহির না হওয়ার নিষেধাজ্ঞার এবং সশস্ত্র বাহিনীর মাঠে নামা ও টহল, র‌্যাব-পুলিশের টহলের মধ্যেও তারা এমন কর্মসূচী পালন করেছে।

গতকাল বিকেল সাড়ে ৫ টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে তারা এককভাবে এই প্রতিবাদ জানায়। এ সময় তাদের হাতে লেখা ছিল ‘রাষ্ট্র তুমি কার? মেহনতী মানুষের না কেবল শোষকের? বিরল জুট মিলে শ্রমিক হত্যা কেন?

প্রতিবাদ কর্মসূচীতে তারা বিরল রুপালী বাংলা জুট মিলে পুলিশের গুলিতে একজন নিহতের ঘটনায় জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে বিচার, বিরলসহ সারাদেশের সকল শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার পুরন করা এবং সারাদেশে সকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানায়। এই প্রতিবাদ কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেন ছাত্র অধিকার পরিষদ দিনাজপুর শাখার সমন্বয়ক একরামুল হক আবির ও সদস্য হারুনুর রশিদ হিমেল।

তারা বলেন, একজন শ্রমিক বকেয়া বেতন নেয়ার জন্য মিলগেটে অবস্থান নিবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এতে করে গুলি বর্ষণের ঘটনা দু:খজনক। কোনভাবেই একজন শ্রমিকের প্রাণ কেড়ে নেয়ার এমন ঘটনা মেনে নেয়ার মত নয়। তাই এই ঘটনায় যারা জড়িত প্রকৃতভাবে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই বিরল উপজেলার রুপালী বাংলা জুট মিল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হলেও কোন প্রকার সিদ্ধান্ত হয়নি। যাতে করে শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে ভাংচুর শুরু করে।

এসময় পুলিশ বিষয়টি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে, যাতে সুরত আলী নামে একজন পান দোকানী নিহত হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। আর পুলিশ দাবি করেছে- এই ঘটনায় তাদের ৩ জন সদস্য আহত হয়েছে। নিহত সুরত আলী বিরল পৌরসভা এলাকার হোসনা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য