দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বিরলে রূপালী বাংলা জুটমিলের শ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি। গতকাল শুক্রবার দিনব্যাপী সরজমিন পরিদর্শন, নিহতর পরিবারের বক্তব্য গ্রহণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের নিকট স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেছে তদন্ত দলটি। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে গঠিত হওয়া দু’টি পৃথক পৃথক কমিটির মধ্যে জেলা প্রশাসন এর গঠিত কমিটি এ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক অপর একটি কমিটিও তদন্ত করবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, বুধবার বিকালে মিল বন্ধের কোন নোটিশ না পেয়ে বিশ্বব্যাপী চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে মিলের অফিসের সম্মুখে অবস্থান নেয়া শুরু করে। সন্ধ্যা থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করে সমঝোতা না হওয়ায় রাত সাড়ে ৮টায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলহাজ্ব এম আব্দুল লতিফ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে অফিস ভাংচুর শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এ সময় হুসনা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র চায়ের দোকানদার সুরত আলী (৩৮) গুলিবিদ্ধ হলে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করে। ঘটনাস্থলে থানার এস আই জিল্লুর রহমানসহ ৬ পুলিশ সদস্য ও প্রায় ১৫ জন শ্রমিক ও উৎসুক জনতা আহত হয়।

সংবাদ পেয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরমেয়র আলহাজ্ব মোঃ সবুজার সিদ্দিক সাগর ঘটনাস্থলে পৌছে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়।

পরে রাতেই জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন বিপিএম, পিপিএম (বার), উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিনাত রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রমাকান্ত রায় ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন এবং নিহতর পরিবারকে সান্তনা প্রদান করে শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

এছাড়াও শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২সদস্য বিশিষ্ট একটি ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৩সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম ও বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনাত রহমান আজ তদন্ত কাজ পরিচালনা করেন।

আর পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোয়েন্দা শাখা) সচিন চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হাফিজুল ইসলাম ও জেলা গোয়েন্দা শাখা’র অফিসার ইনচার্জ এটিএম গোলাম রসুল।

উভয় কমিটি আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ভাংচুর ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় কিছু নাম উল্লেখ করে প্রায় ১১০০ জনের নামে থানার এসআই আব্দুল কাদের বাদি হয়ে ২৬ মার্চ ২৪ নং একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। নিহতের পরিবার থেকে এখনও কোন অভিযোগ না পাওয়ায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।

বৃহষ্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় ময়না তদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নিহত চা দোকানদার সুরত আলীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য