যুক্তরাষ্ট্র নভেল করোনাভাইরাস মহামারী ছড়ানোর নতুন বিশ্বকেন্দ্র হতে পারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করেছে।

তবে ইস্টারের আগেই যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাসমুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, যদিও ভাইরাসটি ‘বুলেট ট্রেনের’ চেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন নিউইয়র্কের গভর্নর।

ডব্লিউএইচওর মুখপ্রাত্র মার্গারেট হ্যারিস মঙ্গলবার রয়টার্সকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ভাইরাসের নতুন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে হারে ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে তাতে এই সম্ভাবনা জোরালো।

বিবিসির হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জনের মৃত্যু হযেছে।যেখানে বিশ্বজুড়ে ৪ লাখ ২০ হাজারের বেশি আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১৯ হাজারের কাছে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবারের আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে নতুন আক্রান্তের ৮৫ শতাংশই ইউরোপ ও আমেরিকায়, যার মধ্যে ৪০ শতাংশই শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বলে হিসাব দিয়েছে রয়টার্স।

তবে ট্রাম্প বলেছেন, ইস্টারের আগেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সফল হবেন বলে তিনি আশা করেন। যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় সচল করতে আগামী মাসের প্রথম দিকের সময়টাকে ‘একটি সুন্দর সময়রেখা’ হিসেবে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেছেন তিনি।

আমেরিকা মহামারীটির নতুন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করার পর তিনি এ আশাবাদী সুর শোনান।

মঙ্গলবার তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, আসছে ১২ এপ্রিল ইস্টারের আগে দেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে বলে তার আশা।

পরে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘টানেলের শেষে আলোর বিন্দু দেখতে শুরু করেছেন’। তবে ‘নিখাদ তথ্য ও ডেটার ভিত্তিতেই’ যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

তবে সংক্রামক রোগ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও করোনভাইরাস প্রতিরোধে একাধিক টাস্ক ফোর্সের সদস্য ডা. অ্যান্টনি ফাউসি সেখানেই বলেছেন, নিউ ইয়র্ক শহরের মতো জায়গায় যা চলছে তা দেখার পর বিষয়টিকে ছোট করে প্রকাশের সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার ভোর নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ হাজারের বেশি নুতন করোনভাইরাস আক্রান্তের মধ্যে অর্ধেই এই রাজ্যের।

হোয়াইট হাউস করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের ডা. ডেবরাহ বার্কস বিবিসিকে বলেন, নিউইয়র্ক সিটির মহানগর এলাকা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আক্রান্তের ৮০ শতাংশের উত্স।

এই অঞ্চল ছেড়ে যাওয়া যে কাউকে দুই সপ্তাহের জন্য কোরেন্টিনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

নিউইয়র্কের ডেমক্রেটদলীয গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো সংবাদ সম্মেলনে বলেন: সংক্রমণের পূর্বাভাসদাতা বিশেষজ্ঞরা তাকে বলেছিলেন, সংক্রমণের গতি বিবেচনায় তারা এতোদিন নিউ ইয়র্কের পথে মালবাহী ট্রেন আসতে দেখছিলেন, যেটা এখন বুলেট ট্রেনে পরিণত হযেছে।

“কয়লা খনির ক্যানারি হল নিউইয়র্ক, এখানে দ্রুত সংক্রমণ ঘটছে। নিউইয়র্কের যা ঘটছে তা ক্যালিফোর্নিয়া এবং ইলিনয়দের ক্ষেত্রে ঘটবে, সময়ের অপেক্ষা মাত্র।”

কেন্দ্র থেকে জরুরি ভিত্তিতে আরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ না করলে শিগগরিই নিউইয়র্কের হাসপাতাল ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে বলে সতর্ক করেন গভর্নর।

কুমো বলেন, ২৬ হাজার লোক মারা যাবে। কারণ কেবল ৪০০ ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে।

নিউইয়র্কে এখন ৭ হাজার শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্র যেখানে ৩০,০০০ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গভর্নর।

করোনাভাইরাস রোধে সমন্বিত কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের ঘাটতির কথা জানিয়ে বেশ কিছু ফেডারেল ও স্থানীয় কর্মকর্তা বলছেন, স্থানীয়দের নিজেরা যার যার মতো কাজ করায় তারা সরবরাহ নিয়ে প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ছেন।

অসুবিধা স্বীকার করে ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “ফেইস মাস্ক ও ভেন্টিলেটরের বিশ্ব বাজার লাগামহীন হয়ে গেছে। রাজ্যগুলিকে সরঞ্জাম পেতে আমরা সহায়তা করে যাচ্ছি, তবে কাজটি সহজ নয়।”

সামাজিক দূরত্বের মাধ্যমে ভাইরাসটির বিস্তারকে কমিয়ে আনার ১৫ দেনের পদক্ষেপের প্রায় অর্ধেক সময় পার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সরকারী জনস্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসি স্বেচ্ছাসেবক নির্দেশিকা জারি করেছে।

তবে প্রেসিডেন্ট বিধিনিষেধ সহজ করার কথা বললেও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা দ্রুত সংক্রমণটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়াকাড়ি অব্যাহত রাখার পক্ষে।

উইসকনসিন, ডেলাওয়্যার, ম্যাসাচুয়েটস, নিউ মেক্সিকো, পশ্চিম ভার্জিনিয়া ও ইন্ডিয়ানা স্টেট মঙ্গলবার ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে, যার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট অবরুদ্ধ রাজ্যের সংখ্যা ১৭টিতে উন্নীত হয়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের মন্দা মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা দুই হাজার কোটি ডলারের একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার বিষয়ে একমত হয়েছে। এটা এখন সিনেট অধিবেশনে পাশ হবে।

এদিকে প্রণোদনা প্যাকেজের খবরে বিনিয়োগকারীরা আশান্বিত হওয়ায় তিন বছরের নিম্নতম পর্যায়ে উল্লম্ফন হয়েছে ওয়াল স্ট্রিটের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য