করোনার আক্রমণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এই মুহূর্তে দেশ জুড়ে আক্রান্ত চারশোরও বেশি মানুষ। ইতিমধ্যেই লকডাউনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে দেশের প্রায় প্রতিটি বড়ো শহরে। সপ্তাহের ব্যস্ততম কাজের দিনগুলোয় খাঁ খাঁ করছে শহরের রাজপথ। আর সেই ফাঁকা শহরে উড়ে বেড়াচ্ছে একাধিক করোনা কেন্দ্রিক গুজব, যার আসলে বৈজ্ঞানিক কোনও ভিত্তি তো নেইই, বরং এ সব কথার উপরে ভরসা করলে বিপত্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে ষোলোআনা! কীভাবে বুঝবেন করোনা নিয়ে রটে যাওয়া কথাগুলোর কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল? খোঁজার চেষ্টা করলাম আমরা।

১/ আইসক্রিম খেলে কি করোনা সংক্রমণ হয়?
এ খবর রটে যাওয়ার পর আইসক্রিমের কথা ভাবতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকে! কিন্তু বাস্তব হল, আইসক্রিমের সঙ্গে করোনা ভাইরাসের কোনও সম্পর্ক নেই। মাঝ চৈত্রের এই সময়টা ঋতুবদলের মরশুম, এই সময়ে ঠান্ডা-গরমে সর্দিকাশি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু তা থেকে কোভিড-19 জীবাণু সংক্রমণের কোনও আশঙ্কা নেই।

২/ ভিটামিন সি খেলে কোভিড-19 হবে না
বিজ্ঞানীদের হাতে এই দাবির স্বপক্ষে এখনও কোনও প্রমাণ নেই। তবে ভিটামিন সি যেহেতু মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় তাই ইচ্ছে করলে ভিটামিন সি খেতে পারেন। এতে কোভিড-19 না আটকালেও আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে, ভিটামিন সি-র অ্যান্টি-অক্সিডান্ট আপনাকে রাখবে সতেজ আর প্রাণোচ্ছল।

৩/ জল খেলে কোভিড-19 হবে না
প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর জল খেলে শরীর থেকে ভাইরাস ধুয়ে যাবে, এমন একটি দাবি রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিল সোশাল মিডিয়ায়। কিন্তু এই দাবির স্বপক্ষেও কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। করোনা ভাইরাস শ্বাসযন্ত্রকে আক্রমণ করে, জল খেয়ে তা ওভাবে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এমনিতে বারবার জল খাওয়ার অভ্যেস আপনার শরীরের পক্ষে ভালো, তাই বেশি করে জল খেলে আপনার লাভ বই ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

৪/ গরম পড়লে করোনা ভাইরাস মরে যাবে
অনেকেই এমন দাবি করেছেন যে ভারতের মতো গরম দেশে করোনা ভাইরাসের দাপট খুব বেশিদিন থাকবে না। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসটি সম্পর্কে যেটুকু তথ্য পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতে বোঝা যাচ্ছে না যে গরম পড়লে ভাইরাসটি কেমন আচরণ করবে। সিঙ্গাপুর বা অস্ট্রেলিয়ার মতো গরম দেশেও করোনার সংক্রমণ ঘটেছে। এমনকী, হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের একটি গবেষণা বলছে, এই ভাইরাসটি চিনের মতো বড়ো দেশে বিভিন্ন অঞ্চলের নানান তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মধ্যেও বেঁচে থাকতে পেরেছে। কাজেই গরম পড়লেই করোনার দাপট কমে যাবে, সে কথা নিশ্চিতভাবে এখনই বলা যাচ্ছে না।

৫/ চিঠি, পার্সেল, খবরের কাগজ থেকে করোনার সংক্রমণ হতে পারে
সে আশঙ্কা কম। কারণ চিঠি, পার্সেল বা খবরের কাগজ যে সময় নিয়ে আমাদের হাতে এসে পৌঁছয়, তাতে করোনা ভাইরাসের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। কাজেই নির্ভয়ে চিঠিপত্র নিতে পারেন। তবে মন একান্ত খুঁতখুঁত করলে হাতে স্যানিটাইজার মেখে নিন।

৬/ ক্লোরিন বা অ্যালকোহল স্প্রে করলে করোনা ভাইরাস মরে যায়
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর মতে, আপনার শরীরে যদি করোনা সংক্রমণ হয়ে থাকে, তা হলে সারা গায়ে ক্লোরিন বা অ্যালকোহল স্প্রে করলে তা তো মরবেই না, বরং চোখে মুখে ওই স্প্রে ঢুকে বিপত্তি বাড়াতে পারে। আপনার যদি সংক্রমণ হয়েছে বলে সন্দেহ হয়, দেরি না করে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৭/ থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সনাক্ত করা সম্ভব
থার্মাল স্ক্যানার আসলে একধরনের থার্মোমিটার। আপনার শরীরে জ্বর থাকলে তবেই তা স্ক্যানারে ধরা পড়বে। কিন্তু কোনও সংক্রমিত ব্যক্তির যদি জ্বর না থাকে, তবে তা থার্মাল স্ক্যানারে ধরা পড়বে না। কারণ সংক্রমণের লক্ষণ ফুটে বেরোতে অন্তত দুই থেকে দশ দিন সময় লাগে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য