গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিয়ের দাওয়াতে আসা দুই যুক্তরাষ্ট্রফেরতের করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইইডিসিআরের একটি দল এলাকায় পৌঁছেছে।

সিভিল সার্জন অফিস জানায়, দলের সদস্যরা ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে থাকা যে ২৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। এরপর বাকি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ১১ মার্চ সাদুল্লাপুরের একটি গ্রামের এক বাড়িতে বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দুইজন আত্মীয়। তারা ওই বাড়িতে দুদিন থেকে ১৩ মার্চ নিমন্ত্রণ খেয়ে গাইবান্ধা শহরে নিজেদের বাড়ি চলে যান। পরবর্তীতে বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে এলে তাদের দুইজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। পরে আইইডিসিআরের পরীক্ষায় ওই দুইজনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

এদিকে, সাদুল্লাপুরে সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য সবকিছু বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন এলাকাবাসী।

জেলার সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ বলেন, সোমবার দুপুরের পর ঢাকা থেকে আইইডিসিআরের চার সদস্যের একটি টিম সাদুল্লাপুর পৌঁছেছে। ওই টিমের সদস্যরা সাদুল্লাপুর উপজেলার হবিবুল্লাপুর গ্রামের বিয়ে অনুষ্ঠানের যে ২৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন।

“এছাড়াও তারা জেলার বিভিন্ন এলাকায় কোয়ারেন্টিনে থাকা সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন; তারপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, সোমবার দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদেশ ফেরত ১৩৯ ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩৫ জনই প্রবাসী।

এদিকে, ঢাকা থেকে আসা আইইডিসিআরের চার সদস্য গণমাধ্যম্য কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

সোমবার সরেজমিনে সাদুল্লাপুর উপজেলা শহর ঘুরে দেখা গেছে, শহর অনেকটা ফাঁকা। লোকজন ও যানবাহন চলাচল অনেক কম। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া শহরে বের হচ্ছে না। যারা ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন তারা মাস্ক পরে বের হচ্ছেন। দ্রুত কাজ সেরে বাড়ি ফিরছেন।

ওই বিয়ে বাড়ির গৃহকর্তা বলেন, তাদের বাড়িতে চার জনসহ তাদের ২৪ জন আত্মীয় নিজ নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। তবে কারও অবস্থা খারাপ নয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সামসুজ্জোহা প্রামানিক রাঙ্গা বলেন, “গত ১৩ মার্চ বিয়ের অনুষ্ঠান ও ১৪ মার্চ বিবাহত্তোর বউ ভাতের অনুষ্ঠানে আসা শনাক্ত হওয়া দুই করোনা রোগীর সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন তাদের সকলকে শনাক্ত করা এখন খুবই কঠিন। তাই সাদুল্লাপুরবাসীর সুরক্ষার জন্য সাদুল্লাপুরকে লক ডাউন করা প্রয়োজন।”

কিন্তু জেলা প্রশাসক এখনও তেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি বলে মনে করেন।

জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন, “লক ডাউন করার পরিস্থিতি এখনও সৃষ্টি হয়নি। প্রয়োজনে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য