পঞ্চগড়ে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) গভীর বুকে ব্যথাসহ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শহরের ধাক্কামারা এলাকার এক ব্যক্তির বাড়িতে তিনি বেড়াতে এসেছিলেন। ওই ব্যাক্তির বাড়ি মাদারীপুরে। তবে তিনি ঢাকায় থাকেন।

ওই ব্যক্তির স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করেন। স্ত্রী ও সন্তানসহ ঢাকায় থাকেন। ১৬ মার্চ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নওগাঁয় শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখান থেকে শাশুড়িকে নিয়ে ২০ মার্চ পঞ্চগড়ে শ্যালিকার বাড়িতে আসেন। সেখানে আসার পরই জ্বর-সর্দি-কাশি শুরু হয় তার। রবিবার রাতে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই বাড়ির ৯ সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

আক্রান্ত ব্যক্তিকে পরীক্ষা করতে আইসিডিসিআর-এ যোগাযোগ করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) বিকালের মধ্যে বিশেষজ্ঞ টিম পঞ্চগড়ে আসবেন। পঞ্চগড়ে এখন পর্যন্ত ৫৬৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। এদের মধ্যে ১৪ জনের কোয়ারেন্টিন শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সিরাজউদ্দৌলা পলিন জানান, রাতে হাসপাতালে আসা ওই ব্যক্তির জ্বর, সর্দি-কাশি এবং বুকে ব্যথাসহ শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। এসব উপসর্গ দেখেই করোনা সন্দেহে তাকে আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়েছে। এর আগে তার বিদেশে যাওয়া বা কোনও বিদেশির সংস্পর্শে আসার ইতিহাস পাওয়া যায়নি। তবে তার অ্যাজমা আছে বলে জানিয়েছেন। তিনি এখন অনেকটা সুস্থ আছেন। তিনি করোনা আক্রান্ত কিনা তা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআর-এ যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এসে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাবেন। পরীক্ষার পরেই বিষয়িটি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হওয়া ওই ব্যক্তি যে বাড়িতে উঠেছিলেন ওই বাড়ির মালিকসহ প্রত্যেককে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তাদের যে কোনও সমস্যায় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। কোনও কিছুর প্রয়োজন হলে পুলিশ তাদের সরবরাহ করবে। পুলিশের পক্ষ থেকে ওই বাড়িতে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য