করোনাভাইরাসে কিশোরগঞ্জ জেলায় বাংলাদেশের তৃতীয় উইকেটের পতন। আমাদের IEDCR থার্ড আম্পায়ার কল করেনি, কোন প্রয়োজন আছে কিনা ভাবছে! তাদের ভাবনা শেষ হতে হতে বংলাদেশের অর্ধেক উইকেটের পতন হবে বলে মনে হচ্ছে। তবুও তাদের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান করা শেষ হবে না। অথচ গতমাস থেকে দেখছি দেশে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত নাকি করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত ছিল, সেখানকার ডাক্তারদের ক্যামেরার সামনে দাঁড়ীয়ে ফটোসেশন, কতভাবে যে পত্র পত্রিকায় প্রচার, আজ তারা কই?

এদিকে স্বনামখ্যাত ডাক্তারেরা সংবাদ সম্মেলন করে স্ত্রী পরিবার পরিজনের দোহাই দিয়েছে জীবনের দোহাই দিচ্ছেন। বাংলাদেশে তারাই তো শুধু মানুষ, শুধু তাদেরই জীবন আছে। আমরা গরু ছাগল পশু বলির পাঠা। তারা নির্দিধায় বড় বড় ঔষধ কম্পানির কমিশনের বিনিময়ে, আমাদের হাই ভলিয়ম ঔষধ প্রেসক্রাইব করে এবং মাত্রাতিরিক্ত ভিজিট নেয়। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে যেসব টেস্টে দেয় সেখানেও অর্ধেকের বেশি কমিশন খায়।

আমরা তো গরু ছাগল তাদের বলির পাঠা, আমাদের জীবনের দাম কি আর পরিবার পরিজনের মুল্যই বা তাদের কাছে কি! এই দেশে শুধু ডাক্তাররাই মানুষ, এর বাহিরে অন্য কেউ সেই স্থান কখনও পায়নি ভবিষতেও পাবেনা। জনসেবার সপথ নিয়ে তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে, সংবাদ সম্মেলন ডাকছে।

খোঁজ নিলে দেখা যাবে সরকারি হাসপাতাল ছেড়ে প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতালে ডেলিভারি সিজারিয়ান, হার্টে রিং, এপেন্ডেসাইট জাতীয় কেস গুলোতে তাদের এখনও উপস্থিতির আগ্রহ অসীম। প্যাকেজ সিস্টেমে তারা এসবের চিকিৎসা করে চলছে। যাদের গাড়ী বাড়ি বিলাসিতার কমতি নেই তাদের দেড় দু’হাজার টাকার সুরক্ষা সরঞ্জামাদির এত অভাব পড়েছে, যে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারকে চারশ কোটি টাকার বাজেট দিচ্ছে।
ডাক্তার ভাই জানের স্বাস্থ্য বেশ নাদুস নুদুস ছিল, মানে কাজ যেমন তেমন খাওয়া পরায় সমস্যা নেই বলা যায়, পরনের সার্ট প্যান্ট হাতের হাত ঘড়ীটাও দামি আমদানি করা ছিল।

তাহলে নিজে থেকে সুরক্ষা সরঞ্জামাদি আমদানি করার ব্যবস্থা করে নিলেই তো পারেন। আপনারা মুখ দিয়ে বললে, সঙ্গে সঙ্গে বড় বড় ঔষধ কম্পানি গুলো বিপুল আগ্রহ নিয়ে আপনাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে। তখন যদি সংবাদ সম্মেলন করে বলতেন আমরা সেবা করছি নিঃস্বার্থ ভাবে, তাহলে মানাতো।

এই দেশে পুলিশ প্রশাসন কখন জনগনের বন্ধু হতে পারবে না। যতই কাঠখড় পোড়াক পুলিশকে কেউ বিশ্বাস করবে না। তেমনি ডাক্তারদের আচরন ব্যবহারের কারনে জনগন তাদের বিশ্বাস করে না। এই দেশের মানুষ রোগ ব্যাধি নয় ডাক্তরদের বেশি ভয় পায়। তাদের চাহিদার অপুরনিয় খাল কখনও পুরন হবার নয়। সরকারি হাসপাতালে সব সুবিধা থাকতেও ডাক্তাররা চিকিৎসা প্রার্থীদের প্রাইভেট ক্লিনিক এবং ডায়গোনস্টিক সেন্টারে পাঠানয়। জনগনকে ডাক্তাররা গরু ছাগল অথবা বলির পাঠা মনে করেন। সামর্থবানরা দেশের বাহিরে চিকিৎসা করে।

ভয় যেমন ডাক্তারদের আছে তেমন জনগনেরও আছে। কিন্তু ডাক্তাররা শরীর স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের জ্ঞানিগুনি মানুষ, আর আমরা জন সাধারন মুর্খ অপদার্থ। ডাক্তাররা যেভাবে বলে আমরা সেভাবেই চলি। ডাক্তারদের আশার বানি শুনে রুগী অর্ধেক সুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু সম্ভব না একথা তাদের মুখে মানায় না। বেতনের টাকার ভরসা না করে প্রাইভেট প্রেকটিস করে অনেক ডাক্তারই ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বারিধারায় মত অভিজাত এলাকায় বাড়ি করেছেন, দু তিন রকমের গাড়ী করেছেন এখন কেন অযথা এই গরীব দেশের সরকারি ফান্ডের অপেক্ষয় আছেন।

সংবাদ সম্মেলন ডেকে পৃথিবীর সামনে দেশকে ছোট করেছেন তেমনি নিজেদের ছোট করলেন। পৃথিবীর কোন দেশ করোনাভাইরাসের জন্য প্রস্তুত ছিল না। তারপরও তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাই দেশের জন্য এগিয়ে আসুন, গরু ছাগল বলির পাঠা হয়েও আমরা মন খুলে আপনাদের জন্য দোয়া করবো। আমরা না বাঁচলে কে আপনাদের খরচ যোগান দেবে বলেন।
২৩/০৩/২০২০
– আজাদ জয়।
সম্পাদক দিনাজপুরনিউজ

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য