মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ করোনার সংক্রমন প্রতিরোধে দেশব্যাপী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার, প্রাইভেট পড়ানোসহ সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনার সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে প্রাইভেট পড়ানোর দায়ে এক শিক্ষিকার ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

২২ মার্চ রবিবার বিকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের সাহেবপাড়া রেলওয়ে স্কুল রোডে এ ঘটনা ঘটেছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পরিমল কুমার সরকার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেহেনা ইয়াসমিন, সৈয়দপুর থানার উপ-পরিদর্শনক নয়ন, সাংবাদিক মোঃ জাকির হোসেন ও শাহজাহান আলী মনন, উপজেলা ভূমি অফিসের আমানত শাহ প্রমুখ। জরিমানার টাকা তাৎক্ষনিক প্রদান করেছেন শহরের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রেলওয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম।

জানা যায়, ওই শিক্ষিকা স্কুল সংলগ্ন রেলওয়ের কোয়াটারে স্বামী সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের পার্সেল সহকারী (বুকিং) মোঃ মাজেদুল ইসলাম রানা কে নিয়ে বসবাস করেন। তিনি ওই কোয়াটারেই নিজ স্কুল সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান। সরকারী নির্দেশনার পরও তিনি ঘটনার দিন পর্যন্ত তার প্রাইভেট অব্যাহত রেখেছেন।

বিকালে তার বাসায় কয়েকজন শিক্ষার্থী পড়তে এসেছেন এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পরিমল কুমার সরকার তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় ওই শিক্ষিকা পরিস্থিতি টের পেয়ে প্রাইভেট পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের ভাগিয়ে দেয়। কিন্তু তাড়াহুড়ার কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুল ব্যাগ রেখেই চলে যায়। যা ভ্রাম্যমান আদালত উপস্থিত হয়ে প্রত্যক্ষ করেন এবং সরকারী নির্দেশ অমান্যের কারণে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। পরে ওই শিক্ষিকা তাৎক্ষনিক ৫ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করে।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পরিমল কুমার সরকার বলেন, করোনা নিয়ে পুরো বিশ্ব যেখানে টঠস্থ। সেখানে আমরা একেবারে অসচেতন। বিশেষ করে শিক্ষকরা এমন অসচেতনার পরিচয় দিলে সাধারণ মানুষদের কিভাবে সাবধান করা যায়। কোনভাবেই এমন অপরাধ বরদাস্ত করা হবেনা। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সৈয়দপুর শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে চিহ্নিত কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ থাকলেও পাড়া-মহল্লায় গড়ে ওঠা প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারগুলো এখনও চলছে। এতে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য