দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে ট্রাক চালককে আটক করে মারধোর করার পর দেড় লাখ টাকা ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে ট্রাক শ্রমিকরা।

শনিবার (২১ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় দিনাজপুরের চেহেলাগাজী ইউনিয়নের গোপালগঞ্জ বাজার এলাকায় ট্রাক শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে রাখে। সড়ক অবরোধ করার ফলে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে উঠে। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া ট্রাক চালক মো. রুস্তম আলী বলেন, ‘আমি রংপুর বদরগঞ্জ থেকে দিনাজপুর রানীগঞ্জ মোড় এলাকায় বয়রা অটো রাইস মিলে ধান নিয়ে আসে আনলোড করি। সেখানে ধান আনলোড করার পর মহাজন আমাকে দেড় লাখ টাকা দেন। সেই টাকা নিয়ে পাশেই কাদের অটো রাইস মিল থেকে চাল লোড করতে বলেন আমার মহাজন।

কাদের অটো রাইস মিলে যাওয়ার সময় যখন গাড়িটা মূল সড়ক থেকে নামিয়ে দেই তখন পিছন থেকে মোটরসাইকেলে আমাকে একজন বলেন গাড়ি সামনে যাবে না। তখন আমি গাড়িটা পিছনে নিতেই মোটরসাইকেলে থাকা স্থানীয় শাহাজাহান ও তার ভাই মুসাসহ আরো দুজন আমার ট্রাকের সামনে এসে দাড়িয়ে বলেন, তুই কি গাড়ি মাল খেয়ে চালাচ্ছিস! মাল খেয়ে গাড়ি চালিয়ে আমাকে মেরে দিবি! তখন আমি বলি, ভাই আমার অপরাধ কি ? এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে মেরে রক্তাত্ব করে আমার পকেটে থাকা দেড় লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।’

ওই ট্রাকের হেল্পার মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমার বাড়ি দিনাজপুরেই। আমি ওই ট্রাকের হেল্পারি করি। আমাদের যখন শাহাজাহান ও মুসা এবং আরো কয়েকজন মুখোশ পড়া লোক এসে অতর্কিতভাবে মারতে শুরু করে তখন আমি ট্রাক থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে গিয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকি। পরে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে আসে।’

গোপালগঞ্জ হাট শ্রমকল্যাণ উপকমিটি (২৪৫) এর শ্রমিক নেতারা খবর পেলে শহরের চেহেলগাজী মাজার এলাকায় এসে ট্রাক চালক রুস্তম আলীকে মারধোর করে টাকা ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে ও অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। শ্রমিক নেতারা জানান, ছিনতাইকারী শাহাজাহান ও মুসাকে যতক্ষণ পুলিশ আটক করতে পারবে না ততক্ষণ আমরা অবরোধ তুলে নিব না।

গোপালগঞ্জ হাট শ্রমকল্যাণ উপকমিটি (২৪৫) সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান জানান, ‘আমার ট্রাক শ্রমিক সদস্যকে স্থানীয় সন্ত্রাসী শাহাজাহান ও তার ভাই মুসা মারধোর করে দেড় লাখ টাকা ছিনতাই করে নেয়। আমরা এর প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করেছি। যতক্ষণ অপরাধীদের গ্রেফতার করা হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না। তবে প্রশাসন থেকে যদি অপরাধীদের গ্রেফতার করার প্রতিশ্রুতি দেয় তাহলে আমরা ভেবে দেখব।’

এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার পুলিশ পরির্দশক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের সাথে কথা বলে বিষয়টা সমাধান করার চেষ্টা চালাচ্ছি। ইতোমধ্যেই একজনকে আটক করেছি। শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী মূল অপরাধীদের আটক করার চেষ্টা চলছে। আশা করি আজকের (শনিবার) মধ্যেই বিষয়টি সমাধান হবে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য