দিনাজপুর সংবাদাতাঃ ফুলবাড়ীতে হঠাৎ করে চালের মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প ও নিম্ন আয়ের ক্রেতারা।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি চালের দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত। পঞ্চাশ কেজির চালের বস্তাা প্রতি বেড়েছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।

মিল মালিকরা চালের দাম বৃদ্ধি করায় বাজারে চালের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তবে মিল মালিকরা বলছেন,বাজারে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই বেড়েছে চালের দাম।

এদিকে ফুুলবাড়ী বাজারের চাল ব্যবসায়ী জয় প্রকাশ গুপ্ত বলেন হঠাৎ ধানের দাম বেড়ে যাওয়ার কারনেই চালের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বস্তা প্রতি চালের দামও বেড়েছে।
অপরদিকে বারবার চালের মূল্য বৃদ্ধির জন্য মিলারদের দায়ী করছেন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা। অন্যদিকে,শুধু মিলারদের কারসাজি নয়, সঠিক তদারকির অভাবকেও দায়ী করছেন বিশিষ্ট জনেরা।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী বাজার ঘুরে জানা গেছে এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। সাধারণ মানুষ যে চাল খায় গুটি-স্বর্ণা ৩০ থেকে বেড়ে ৩২, মিনিকেট ৫০ থেকে বেড়ে ৫৫, ২৮চাল ৪০ থেকে বেড়ে ৪৫, স¦র্ণা ফাইভ ৩০ থেকে বেড়ে ৩৩টাকা,ভ্যারাইটি এবং নাজিরশাল বেড়েছে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা। তবে কাটারি, চিনিগুঁড়া এবং জিরা কাটারির দাম স্বাভাবিক রয়েছে। হঠাৎ চালের এই মূল্য বৃদ্ধিতে স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা বিপাকে পড়েছেন।

আমিন আটো রাইস মিলের সত্বাধীকারী রুহুল আমিন বলেন, ধানের দাম বস্তা প্রতি ১৫০টাকা বেড়েছে, সে কারনে চালের মুল্য বস্তা প্রতি ৫০টাকা বাড়ানো হয়েছে। এ বছর চিকন ধান পর্যাপ্ত আবাদ হলেও মোটা ধান আবাদ খুব কম হয়েছে আর এ কারনেই ধানের সংকট হয়েছে তাই মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন আমাদের মিলে যতটুকু ধান স্টক রয়েছে তা দিয়ে পুরো সিজিন মিল চালানো সম্ভব হবেনা কারন ইরিবোরো ধান উঠতে এখনো তিন মাস বাকি, এ ধান দিয়ে বড় জোর এক মাস মিল চলতে পারে, এরপর মিল বন্ধ রাখতে হতে পারে।

কাঁটাবাড়ী গ্রামের রাহাদ গাজিসহ একাধিক ক্রেতারা জানান, বাজারে চাল কিনতে গিয়ে দেখি চালের কেজি প্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। হঠাৎ মুল্য বৃদ্ধিতে আমাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে।তাই চালের দাম যাতে না বাড়ে সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সঠিক তদারকি করা দরকার।

কৃষকদের কাছে কোনো ধান নেই,সব ধান রয়েছে মিলারদের কাছে। মিলারদের কাছে ধান এবং চাল পর্যাপ্ত থাকার পরেও কেনো দাম বৃদ্ধি,সে জন্য মিলাররা দায়ী বলে অভিযোগ সাধারাণ মানুষের।

এদিকে, করোনাভাইরাসের অজুহাতে সংকট দেখিয়ে কেউ যেন দ্রব্য মূল্যের দাম বৃদ্ধি করতে না পারে এজন্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১৯মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে ফুলবাড়ী বাজারের নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যের বাজার দর মনিটরিং করেন ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম চৌধুরী। এসময় তিনি বাজার ঘুরে দেখেন এবং দোকানে মূল্য তালিকা ঝুঁলিয়ে রাখার নির্দেশ দেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য