মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুরে চাল, পিয়াজ, রসুন, আদাসহ নিত্যপন্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে। হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং বাজারে মজুদ পন্যের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিক্রেতারা বেশি দামে বিক্রি করছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে দোকানপাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে এমন গুজবের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পন্যসামগ্রী কেনার হিড়িক পড়ায় এমনটা হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

২০ মার্চ শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে সৈয়দপুর পৌর আধুনিক বাজারে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। যা গতকালও ছিল ৪৫ টাকা কেজি। একইভাবে রসুন বিক্রি হচ্ছে পূর্বের দামের চেয়ে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বৃদ্ধি করে ৬০ টাকা। আদা ১৪০ টাকা কেজি। যা ছিল ১০০ টাকা।

এদিকে শহরের চাউল মার্কেটে দেখা গেছে চাল বস্তা প্রতি ৩শ’ টাকা থেকে ৫শ’ টাকা বেড়েছে। ফলে ২ দিন আগেও যে চাল বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮শ’ টাকা বস্তা তা এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২শ’ টাকা পর্যন্ত। ইরি-২৮ জাতের চাল ৩০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৫০ টাকা। যা পূর্বে ছিল ১ হাজার ৯৫০ টাকা। একইভাবে অন্যান্য চালেও মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ক্রেতা জানান, চীনের মত ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে যদি লকডাউন করা হয় তাহলে তো বাজার-দোকান বন্ধ থাকবে। তখন প্রয়োজনীয় নিত্যপন্য কোথায় পাবো। কানাডার মত তো আর সরকার একমাসের খাবার, ওষুধ বা বেতন ঘরে পৌছে দিবেনা। তাই একটু বেশি করে কিনে রাখছি।

এ ব্যাপারে কাচামাল আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ী মোঃ আলিম জানান, মুলতঃ করোনা ভাইরাসের গুজবেই ক্রেতারা অধিক পরিমানে ক্রয় করে মজুদের চেষ্টা করছেন। এর ফলে বাজারের মজুদ কমতে থাকায় নিত্যপন্যের দাম বৃদ্ধি হয়েছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত হলে এ পরিস্থিতি থাকবেনা বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমেদ বলেন, আমরা সকালেও বাজার মনিটরিং করেছি। পাইকারদের পন্য ক্রয়ের মেমোর সাথে বিক্রয় মূল্য মিলিয়ে দেখেছি। বিকালেও আমাদের মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। কোন তারতম্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য