দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বিরল ও বীরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে সরাসরি নেপাল, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে আলু রফতানি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বীরগঞ্জ থেকে ১৫০০ টন আলু মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে রফতানি করা হয়েছে। বিরল থেকে নেপালের বির্তামুডি জাপার উদ্দেশ্যে প্রথম চালানের ১১০ টন আলু নিয়ে যাত্রা করেছে। নেপালে পাঁচটি ট্রাক রওনা দেয়, যা ক্রমান্বয়ে তিন হাজার টন আলু বিরলের প্রত্যন্ত গ্রাম গোবিন্দপুর থেকে বিদেশে রফতানি করা হবে।

বাংলাদেশ প্রাণ এগ্রো বিজনেস লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে বিরল উপজেলার কৃষি বিভাগের নিরলস প্রচেষ্টায় উপজেলার ১২টি ব্লকের ৭৫০ একর জমিতে ১২০০ কৃষকের সঙ্গে প্রাণ কোম্পানির ১০ হাজার টন আলুর চুক্তি হয়। যার মধ্যে তিন হাজার টন আলু বিদেশে রফতানি হবে ও বাকি সাত টন আলু তারা নিজস্ব কোম্পানিতে রাখবে। তিন হাজার টনের মধ্যে ৫০০ টন আলু রফতানি হবে নেপালে এবং বাকি ২৫০০ টন আলু দুবাই, কাতার, ওমান, মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাণ এগ্রো বিজনেস লিমিটেডের সিনিয়র প্রোডাকশন ম্যানেজার (পটেটো) কৃষিবিদ মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, কৃষকদের সুবিধার্থে আলু উত্তোলনের পর কোম্পানির নিজস্ব সেডে নিউরিং গ্রেডিং শোডিং ও ওজন করে বস্তা প্যাকিং করা হয়। রফতানিতে নেপালে পাঠানোর জন্য বস্তায় ৫০ কেজি করে এবং অন্যান্য দেশের জন্য কাগজের প্যাকেটে ১০ কেজি করে প্যাকেটিং করা হয়।

উপস্থিত কৃষক আব্দুল মজিদ, খোকা মিয়া, আব্দুর রহিম, আতিজুল ইসলামসহ অন্যান্য কৃষকেরা জানান, আমাদের খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা আর বিক্রয়মূল্য পাচ্ছি প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তারা বলেন, আমাদের চাষকৃত উৎপাদিত ফসল আলু সরাসরি গ্রাম থেকে বিদেশে রফতানি হচ্ছে আমরা খুবই খুশি। এভাবে রফতানি হলে আগামীতে আমরা আরও বেশি করে আলু চাষাবাদ করব এবং বেশি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব।

বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুবার রহমান জানান, চলতি বছর এ উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৯৫০ হেক্টর জমিতে; কিন্তু তা অর্জিত হয়েছে ৮৪৫৩ হেক্টর। তিনি বলেন, আলু চাষের ফলে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে অর্থাৎ দুই ফসলি জমি তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। পোকামাকড় দমনে উপজেলা কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিরলসভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে; ফলে ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে কৃষকেরা আলু চাষে লাভবান হচ্ছে। চলতি বছর এ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে গোবিন্দপুর থেকে সরাসরি বিদেশে আলু রফতানি হচ্ছে। তাতে কৃষকেরা যেমন বেশি লাভবান হচ্ছে; তেমনি বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের কৃষি বৈদেশিক কৃষিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকতা আবু রেজা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বীরগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে দেশীয় মাসওয়া এগ্রো লিমিটেড কোম্পানির মাধ্যমে ১৫০০ টন আলু মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে রফতানি করা হয়েছে। তবে আরও আলু রফতানির প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে, অচিরেই বীরগঞ্জের কৃষকেরা এর সুফল পাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. তৌহিদুল ইকবাল বলেন, জেলার বিরল ও বীরগঞ্জ উপজেলা থেকে পৃথক দুটি দেশীয় কোম্পানির মাধ্যমে নেপাল, মালয়েশিয়াসহ সিঙ্গাপুরে আলু রফতানি শুরু করেছে। উৎকৃষ্টমানের আলু আবাদ হওয়ায় দিনাজপুর থেকে সরাসরি বিদেশে রফতানি করছে কোম্পানিগুলো। এতে ন্যায্য দাম পাওয়ায় আলু আবাদে কৃষকেরা আরও উৎসাহী হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য