আমেরিকায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার ওয়াশিংটনের সিয়াটলের একটি স্টার্টআপের অপারেশনস ম্যানেজার জেনিফার হলারের ওপর ভ্যাকসিনটি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়।

মার্কিন বার্তা সংস্থা দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বা এপি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত সিয়াটলের কাইজার পারমানেন্টে গবেষণাকেন্দ্রে চারজনকে ভ্যাকসিনটি দেয়া হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের ১৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ৪৫ সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীর দেহে এই টিকা প্রয়োগ করা হবে। যারা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, সবাই ১০০ মার্কিন ডলার করে পাবেন। চিকিৎসকেরা তাঁদের দুবার ইনজেকশন দেবেন এবং পরে কয়েকবার পরীক্ষা করে দেখবেন।

টিকা নেয়ার পর প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট গিকওয়্যারকে জেনিফার হলার বলেছেন, ‘টিকা নেওয়ার পর আমি খুব ভালো আছি। আমার বাহুতে মোটেও কোনো যন্ত্রণা হয়নি। এটি অন্যান্য ফ্লু’র ভ্যাকসিনের চেয়ে ভালো।’

লাইভ সায়েন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনটি নিরাপদ ও বিশ্বব্যাপী ব্যবহার–উপযোগী হতে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি পর্যায়ক্রমিক ধাপ পেরোতে হবে। প্রথম পর্ব ভালোভাবে পার হলে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে তা সাধারণের ব্যবহারের উপযোগী হতে পারে। প্রথম ধাপ শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপে বেশিসংখ্যক মানুষের ওপর বেশি সময় ধরে এ ভ্যাকসিন পরীক্ষা করা হবে।

তৃতীয় ধাপে ৩০০ থেকে ৩ হাজার মানুষের ওপর এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে এ ভ্যাকসিন পরীক্ষা করা হবে। এভাবে যদি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন সব ধাপে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়, তবে তা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উপযোগী ঘোষণা করা হতে পারে।

দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের এনআইএইচ’র (এনআইএইচ) পক্ষ থেকে এ পরীক্ষার অর্থায়ন করা হচ্ছে। এনআইএইচ ও মডার্না ইনকরপোরেশনের যৌথ সহযোগিতায় এই ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য