দিনাজপুর সংবাদাতাঃ পার্বতীপুরে নাম মাত্র জামানত ও সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার কথা বলে এক নাম সর্বস্ব এনজিও গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আলোছায়া এন্টারপ্রাইজ নামে পরিচয় দেয়া ওই এনজিও’র কর্মকর্তারা কমপক্ষে ১০০ জন গ্রাহকের প্রায় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছেন।

এতে ওই এনজিওতে অনেক কষ্টে জমানো সঞ্চয়ের টাকা হারিয়ে বুক ফাটা কান্না ও চোখের জলের আহাজারিতে বিষন্ন হয়ে পড়েছে এলাকার পরিবেশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলোছায়া এন্টারপ্রাইজ নামে পরিচয় দিয়ে একটি বে-সরকারী সংস্থা (এনজিও) পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী মহসড়কের পাশে দ্বিতল ভবেনর ঠিকানা ব্যবহার করে গত ৩ মার্চ থেকে কার্যক্রম শুরু করে। এলাকার ঋণ দেওয়ার কথা বলে পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী মহসড়কের পাশে মোস্তাফিজুর রহমানের নির্মাণাধীন ভবনের নীচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেয়ার কথা বলে সেখানে চেয়ার-টেবিল রাখেন।

পার্বতীপুর উপজেলার চন্ডিপুর, বেলাইচন্ডি, পলাশবাড়ী, হাবড়া, মোমিনপুর, রামপুর, মোস্তাফাপুর, হরিরামপুর, হামিদপুর ও মন্মথপুর ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে সাধরন ঋণ, গাভী ক্রয়, বিভিন্ন যন্ত্র ও ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা কিনতে ঋণ দেওয়ার কথা বলে এনজিও কর্মকর্তারা। একই কৌশলে তারা এই এলাকার প্রায় ১০০ জনকে সদস্য করে। এরমধ্যে ৮০ জন গ্রাহক এক লাখ টাকা পাওয়ার আশায় ১০ হাজার টাকা, ৫০ হাজার টাকার টন্য ৫ হাজার করে সঞ্চয় এনজিও কর্মকর্তাদের নিকট জমা দেন।

গত রোববার গ্রাহকদের মাঝে ঋণ বিতরনের কথা ছিল। এ অবস্থায় গ্রাহকদের অগোচরে শনিবার বিকেলের দিকে এনজিও কর্মকর্তা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের রেহেনা পারভীন (৩৫) জানান, তিনি মুদি দোকানে ব্যবসা করেন। ওই সংস্থা থেকে রোববার তাকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। সংস্থাটিতে সঞ্চয় হিসেবে তিনি ৮ হাজার টাকা জমা দেন গত বৃহস্পতিবার।

এজিও’র গ্রাহক নার্গিস আরা বেগম (৩০), মমিনুল ইসলাম (২৮) ও আনোয়ার হোসেন (৩৩) জানান, রোববার সকাল থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ওই সংস্থার নামে ব্যবহৃত নাম্বারে (০১৩১২৮৩৫৭২৭ অথবা ০১৯০৮৭৪৪৮৮৭) মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এবিষয়ে এনজিও কার্যালয়ের ভবন মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত ৩ মার্চ আমার ভবনের নীচতলায় ৫ হাজার টাকা করে ভাড়া প্রদানের মৌখিক চুক্তি হওয়ার কথা হয়েছিল গত রোববার (১৫ মার্চ)। কিন্তু গত রোববার পর্যন্ত ওই এনজিও’র কর্মকর্তারা আর যোগাযোগ করেনি এবং তাদের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে। তবে ঋণ প্রদানের কথা বলে এলাকার অনেক গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে কর্মকর্তারা।

পার্বতীপুর মডেল থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোখলেছুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন গ্রাহক অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে সোমবার বিকেল ৫টায় যোগাযোগ করা হলে পার্বতীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তাপস রায় বলেন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় স্থানীয় সংঘ, সমিতি, ক্লাব ও এনজিও কে নিবন্ধন দিয়ে থাকে। অভিযুক্ত আলোছায়া এন্টারপ্রাইজ নামে কোন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের জন্য কোন আবেদন করেনি। এজন্য তাদের নিবন্ধনভূক্ত করার প্রশ্ন আসে না। কোন প্রতিষ্ঠানকে এন্টারপ্রাইজ বলার অর্থ এটা যৌথ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যার নিবন্ধন সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে করা হয় না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য