মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতার বিরোধিতা করে ২০১৮ সালের ৮মে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির জন্য এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান এবং তেহরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

ট্রাম্পের এ পদক্ষেপে আমেরিকার ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক সমালোচনা হওয়া ছাড়াও ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির কার্যকরিতা নিয়েও ব্যাপক সন্দেহ দেখা দিয়েছে। খোদ মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইরান বিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য সিনেটর বব মেনেন্ডেয ইরাকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সেখানকার বাস্তবতা মেনে নিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির মার্কিন চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন এ সিনেটর আরো বলেন, ইরাকের তাজিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সাম্প্রতিক সশস্ত্র হামলার জন্য ইরান সমর্থক মিলিশিয়া গ্রুপকে দায়ী করার পরিবর্তে ট্রাম্প সরকারের উচিত ইরানের প্রতিরোধ শক্তিকে মেনে নেয়া। আর যদি মেনে নেয়া না হয় তাহলে এর জন্য মার্কিন সেনাদেরকে চরম মূল্য দিতে হবে।

এদিকে, মার্কিন ডেমোক্রেট দলের সিনেটর ক্রিস মারফিও ইরানের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এ ভ্রান্ত নীতি কেবল ইরানকে আরো শক্তিশালী করবে।’ তিনি এক টুইট বার্তায় আরো বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নীতি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের প্রতি বিদ্বেষ কেবল ওই দেশটিকে আরো শক্তিশালী করেছে এবং আমেরিকাকে দুর্বল করেছে।’ ডেমোক্রেট দলের এ সিনেটর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার সমালোচনা করে বলেছেন, ‘দাবি করা হয়েছিল ইরানকে মোকাবেলা করতেই সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু বাস্তবে ইরানকে থামিয়ে রাখা যায় নি।’

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের ব্যাপারে মার্কিন নীতি ব্যর্থ হয়েছে বলে আমেরিকার এ দুই কর্মকর্তার স্বীকারোক্তি থেকে বোঝা যায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা যতই তাদের সফলতার স্বপক্ষে বক্তব্য দিক না কেন বাস্তবতা হচ্ছে ইরানের ব্যাপারে আমেরিকার কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি। অভ্যন্তরীণ কিংবা আঞ্চলিক অঙ্গনে আর্থ-রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে আমেরিকার সর্বোচ্চ চাপ মোকাবেলা করে এসেছে ইরান।

শুধু যে মার্কিন রাজনীতিবিদরাই ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির নীতির সমালোচনা করছে তাই নয় একই সঙ্গে ইউরোপ বিশেষ করে জার্মানি ও ফ্রান্সের কর্মকর্তারাও তেহরানের ব্যাপারে ট্রাম্পের নীতির ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন। ইরানের ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসনের এ ব্যর্থতা ও ভুল নীতি থেকে বোঝা যায় তার মিত্ররাও ট্রাম্পের সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির নীতিকে ভাল চোখে দেখছে না।

ট্রাম্প প্রশাসন আশা করেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওর ১২ দফা প্রস্তাব মেনে নিতে ইরানকে বাধ্য করা যাবে এবং তাদেরকে আলোচনার টেবিলে বসানো যাবে। কিন্তু বাস্তবে তাদের সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য