মধ্যরাতে তুলে নিয়ে দণ্ড দিয়ে জেলে পাঠানোর দুদিন পর মুক্তি পেয়ে কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগান বলেছেন, জামিনের আবেদন তিনি করেননি, চোখ বেঁধে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

সারাদেশে সমালোচনার মধ্যে রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় জামিন শুনানির শেষে বেলা ১২টায় কারাগার থেকে মুক্তি পান বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল। পরে তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “চোখ বাঁধা অবস্থায় আমার কাছ থেকে জোর করে চারবার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাড়াহুড়ো করে কারাগারে পাঠানো হয়। হাসপাতালে আসার আগ পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে তা আমাকে জোর করে করানো হয়েছে।”

আরিফুলের পরিবারের কেউ জামিন আবেদন করেননি জানিয়ে তার মামা নবিদুল বলেন, তারা ডিসি অফিসে নথিপত্র তোলার জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তারা জানতে পাররেন আরিফুলের জামিন হয়ে গেছে।

“কে আবেদন করেছে তা আমাদের জানা নেই। পরিবারের পক্ষ থেকে জামিন চাওয়া হয় নাই।”

আরিফুলের আইনজীবী শাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুজাউদ্দৌলার আদালতে জামিন আবেদনের শুনানি হয়। ২৫ হাজার টাকার মুচলেকায় আইনজীবী আহসান হাবীব নীলুর জিম্মায় তার জামিন মঞ্জুর করা হয়।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন শহরের একটি সরকারি পুকুর সংস্কারের পর নিজের নামানুসারে ওই পুকুরের নাম ‘সুলতানা সরোবর’ রাখতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে বাংলা ট্রিবিউনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় দশ মাস আগে।

এরপর বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক আরিফুলকে শুক্রবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মাদক রাখার অভিযোগে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ওই অভিযান পরিচালনা করেন। গভীর রাতে সাংবাদিককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সাজা দেওয়ার ঘটনায় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহল তীব্র প্রতিবাদ জানায়। ডিসির সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করেন অনেকে।

এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানা তদন্ত করে যে প্রতিবেদন দেন, তাতে ডিসির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কথা বলা হয়।

ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন রোববার ঢাকায় সংবাদসম্মেলন করে বলেন, “তাকে (ডিসি) প্রত্যাহার করা হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে। কর্ম অনুযায়ী তার শাস্তি হবে।”

মুক্তি পাওয়ার পর আরিফুল হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, “হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার পর আমাকে বিবস্ত্র করে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। শরীরে সেই আঘাতের চিহ্নও আছে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রেদওয়ান ফেরদৌস সজীব বলেন, “আরিফুল বর্তমানে ভাল আছেন। তার শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। প্রতিবেদন পেলে প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।”

আরিফুলের অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে পারেনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য