সংবাদ সম্মেলনঃ দিনাজপুরের বিরল থানা পুলিশের এসআই আব্দুল কাদেরসহ সঙ্গীয় ফোর্সের হয়রানি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভূক্তভোগী।

বৃহষ্পতিবার বিরল প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান ভূক্তভোগী ফরহাদুর রহমান সেলিম।
লিখিত বক্তব্যে ফরহাদুর রহমান সেলিম জানান, তিনি সমাজ সেবার পাশাপাশি পেশায় একজন দলিল লেখক ও রাজনীতিবীদ। বিরল পৌরসভার ১ম নির্বাচনে একজন মেয়র পদপ্রার্থী হিসাবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন।

সমাজ সেবায় বিভিন্ন রকমের সেবামূলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি। গত ৯ মার্চ সোমবার বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টায় বিরল উপজেলাধীন ধর্মপুর ইউপি’র কামদেবপুর বাজারে তিনি সঙ্গীয় বন্ধু ৫নং বিরল ইউপি’র দুলহরী গ্রামের সেলিম রেজা, বিরল সাব রেজিষ্ট্রী অফিস এলাকার কম্পিউটার দোকানদার পিপল্ল্যা (ধুকুরঝাড়ী) গ্রামের নুর ইসলাম, দিনাজপুর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলার বালুয়াডাঙ্গা মহল্লার রাজিব, ব্যাটারীচালিত অটো রিক্সা/ভ্যানগাড়ী বিক্রেতা পুলহাট এলাকার ব্যবসায়ী মির্জাসহ যাওয়ার পথিমধ্যে কামদেবপুর (বনছিকুড়ি) নামক স্থানে বিরল থানা পুলিশের এসআই আব্দুল কাদের এর নেতৃত্বে এসআই মামুনুর রশিদ, এ এসআই বজলুর রহমানসহ ৫/৬ জন তাঁদের পথরোধ করে মোটরসাইকেল থামিয়ে চাবি তুলে নিয়ে আটক করে তল্লাশী চালায়।

তল্লঅশীকালে তাঁদের নিকট কোন অবৈধ কিছু না পেলেও সেখানে পৌছার পূর্বহতেই রসুলশাহাপুর গ্রামের মাইনুদ্দিন এর পুত্র কালিয়াগঞ্জ বাজারের মোটরসাইকেল মেকানিক্স মাসুদ রানাসহ অপর একজনকেও আটক করে রেখে এবং ২ লাখ টাকা দিলে ঘটনাস্থল থেকে ছেড়ে দিবে বলে আলাপচারিতা করছিল পুলিশ। তখন মাসুদ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার আকুতি মিনতি করতে থাকায় এবং সেলিমদের নিকট কোন কিছু না পাওয়ায় এস আই কাদের বলে সবাইকে নিয়ে থানায় চলো। এর মধ্যে থানায় নিয়ে আসতে আসতে সেলিম এর সঙ্গীয় নুর ইসলাম, রাজিব ও মির্জাকে পথিমধ্যেই ছেড়ে দেয়।

সেলিমকেসহ ফরহাদুর রহমান সেলিম এর মিতা সেলিম রেজা ও মোটরসাইকেল মেকানিক্স মাসুদ এর সঙ্গীয় অপর একজনকে থানায় নিয়ে আসে। থানায় পৌছার পর সেলিম রেজাকে থানার গোলঘরে বসিয়ে রেখে বাকি ৩ জনকে থানা হাজতে সরাসরি নিয়ে গিয়ে রাখে। কিছুক্ষণ পর মাসুদকে থানা হাজত থেকে বের করে এসআই কাদের এর রুমে নিয়ে গিয়ে পূণরায় ২ লাখ টাকা চাইতে গিয়ে সে আবারো ৫০ হাজার টাকা দিতে চাওয়ায় রাগের বশিঃভূত হয়ে তাকে বেদম মারপিট করে আবারো থানা হাজতে তাঁদের নিকট রেখে দেয়। এরপর রাত সাড়ে ৩ টায় মোক্তার আলী নামের অপর একজনকে থানা হাজতে নিয়ে আসে তাঁদের সাথে রাখে।

পরদিন সকালে আদালতে ফরহাদুর রহমান সেলিম এর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ কাল্পনিক, মিথ্যা, বানোয়াট, সাজানো একটি মামলা দিয়ে মাসুদ রানা, শাইখুল ইসলাম শাকিল ও ফরহাদুর রহমান সেলিমকে বিরল থানার ০৯/৭৪ নং মামলায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর ১৪(খ)/৪১ ধারায় আদালতে প্রেরণ করে।

বিজ্ঞ বিচারক অবস্থাদৃষ্টে সেলিম এর আইনজীবির বক্তব্য শ্রবণ করে সেলিম এর জামিন মঞ্জুর করে। সেলিম নিজের আত্মসম্মানের কথা চিন্তা করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে সাজানো বানোয়াট কাল্পনিক মামলার সরজমিন তদন্ত করে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বাস্তবতার নিরীখে অর্থলোভী এসআই আব্দুল কাদেরসহ তাঁর সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্সের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

এছাড়াও সেলিম অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে এসআই আব্দুল কাদেরসহ অন্যান্য অসাধু পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নিকট সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে বিচার এবং মিথ্যা মামলা হতে অব্যাহতির দাবি জানান।

এ সময় বিরল প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এ কুদ্দুস সরকার, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক শামু, কোষাধ্যক্ষ আতিউর রহমান, নির্বাহী সদস্য সুবল রায়, সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

ফরহাদুর রহমান সেলিম সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পথিমধ্যে ৩ জনকে এবং থানায় নিয়ে আসার পর অপর একজনকে কিভাবে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে উনারাই বলতে পারবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য