সংবাদ সম্মেলনঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রকাশের প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে সৈয়দপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষ। ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় প্রতিষ্ঠান চত্বরে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি ও সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মোঃ রাজিব উদ্দিনসহ অভিভাবক সদস্য খোরশেদ আলম, রবিউল ইসলাম, রানু বেগম, দুলালী বেগমসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক মন্ডলী এবং সাংবাদিকগণ।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মোঃ মোখছেদুল মোমিন লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান। এতে তিনি বলেন, সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজটি ৭২ বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ অঞ্চলের নারী শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে অনবদ্য অবদান।

আমি এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হওয়ার পর গভর্নিং বডির সম্মানিত সদস্য, অভিভাবক-শিক্ষকদের সহযোগিতায় শিক্ষার মান এবং পরিবেশ উন্নয়নে নানা কর্মকান্ড পরিচালনা করেছি। এর মধ্যে প্রধান গেট, বাউন্ডারী ওয়াল, নাইটগার্ড রুম, সাইকেল গ্যারেজ, শিক্ষকদের টয়লেট, শিক্ষার্থীদের বিশেষ মডেল টয়লেট নির্মাণ, মাঠে মাটি ভরাটসহ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সিসি ক্যামেরা স্থাপন। একইভাবে বর্তমানে পাঁচ কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল ভবনের কাজ চলমান। আগামীতে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ, ডিজিটাল হাজিরা সিস্টেম চালু, একটি অডিটরিয়ামসহ আরেকটি ভবন নির্মানের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উন্নয়ন করার পরও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে রয়েছে।

সামগ্রিক পরিবেশ ও খেলার মাঠ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এবং শিক্ষার্থীদের দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষার্থে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং গভর্নিং বডি ও উপজেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানের মধ্যখানে বিষফোঁড়ার মত অবস্থিত জরাজীর্ন পরিত্যক্ত ভবনটি অপসারণ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে এ কাজটি সম্পন্ন করা হয় এবং এ থেকে অর্জিত অর্থ যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক একাউন্টে সংরক্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও দু’টি পত্রিকায় দুঃখজনকভাবে আমাকে, অধ্যক্ষ ও কমিটির সদস্যদেরকে উদ্দেশ্য করে প্রকৃত ঘটনা না জেনে মিথ্যে ও বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাদেরকে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ ভবনটি তাদের দাবি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর এ সংক্রান্ত কাগজপত্র সন্ধান করতে গিয়ে আমরা যে তথ্য পেয়েছি তার ভিত্তিতে আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সৈয়দপুর পৌর ভূমি অফিস থেকে প্রতিষ্ঠানের হোল্ডিং নম্বর প্রদান পূর্বক খাজনা হালনাগাদ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় উক্ত ভবনটি রেলওয়ের না প্রতিষ্ঠানের তা সহজেই অনুমেয়।

তিনি এসময় প্রশ্ন রাখেন যে, ভবনটি যদি রেলওয়েরই হয়ে থাকে তাহলে দীর্ঘ ৭২ বছরে এ ব্যাপারে কোন চিঠি দেওয়া হয়নি কেন এবং রেলওয়ের জমি কিভাবে এখন পৌর ভূমি অফিস কর্তৃক হোল্ডিং প্রদান ও খাজনা গ্রহন করা হলো? এতে প্রতিয়মান হয় যে, ভবনটি প্রতিষ্ঠানরই। তাই এটি প্রয়োজনে নিয়ম মাফিক অপসারণ করা হয়েছে। অথচ বিষয়গুলো না জেনে এ ব্যাপারে অহেতুক সংবাদ প্রকাশ করে হয়রানী করা থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য