আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় মাতব্বরের দেয়া ফতোয়ার শিকার হয়ে প্রায় দুই বছর ধরে এক ঘরে হয়ে আছে দশ সদস্যের একটি পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দলগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীখাতা বালাপাড়া গ্রামে।

এদিকে এক ঘরে করে রাখার বিষয়ে মফিজুল ইসলাম, নুর আমিন, শাহজাহান আলী, আইয়ুব আলী ও মনির মিয়াকে অভিযুক্ত করে কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী পরিবারের মনজিলা বেগম। তবে থানা পুলিশকে অবগত করা হলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগিদের।

জানা গেছে, উপজেলার ওই গ্রামের জহুরুল ইসলামের (৬৫) প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ায় মনজিলা বেগমকে (৩৫) দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে ভালোই চলছিল তাদের সংসার। এরই মধ্যে বছর দুয়েক আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে জহুরল মৌখিকভাবে স্ত্রী মনজিলাকে তালাক দেন। স্ত্রী মনজিলাও রাগ করে তার ভাইয়ের বাড়িতে চলে যান। এক মাস পর আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন।

এই অবস্থায় তাদের ঘর-সংসার করার অপরাধে শ্রীখাতা বালাপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর আমিন ওই পরিবারকে একঘরে করার ঘোষণা দেন। এরপর থেকে ওই পরিবারটির চলাচলের জন্য অন্যের জমি ব্যবহারে বাঁধাসহ গ্রামের দোকান থেকে খরচ ক্রয় ও মসজিদে নামাজ পড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর আমিন সাংবাদিকদের বলেন, আমি এককভাবে একঘরে করিনি। সমাজের দশজন সিদ্বান্ত নিয়ে তাদের একঘরে করেছেন।

দলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান খ.ম শফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবারটিকে একঘরে করে রাখার ঘটনাটি একবারেই অমানবিক।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য