ইটালির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন লমবার্ডিসহ আরো ১৪ টা প্রদেশে অন্তত এক কোটি ৬০ লক্ষ মানুষকে বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

এই অবস্থা এপ্রিলের প্রথম দিক পর্যন্ত থাকবে। দেশটিতে নাটকীয়ভাবে করোনাভাইরাস বেড়ে যাওয়ায় ব্যায়ামাগার, সুইমিংপুল, যাদুঘর এবং স্কি রিসোর্টগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইটালি মারাত্মকভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

শনিবার এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়।

বাণিজ্যিক কেন্দ্র মিলান এবং পর্যটকদের মূল আকর্ষণ কেন্দ্র ভেনিসে এই পদক্ষেপ এপ্রিলের তিন তারিখ পর্যন্ত চলবে।

ইটালিতে মৃতের সংখ্যা এখন ২৩০ জন ছাড়িয়ে গেছে। কর্মকর্তারা বলছেন ২৪ ঘণ্টায় ৫০ জনের বেশি মারা গেছে।

নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা শনিবার এক ধাক্কায় ১,২০০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫,৮৮৩ জন।

লমবার্ডির পুরো উত্তর অঞ্চল যেখানে এক কোটি লোকের বাস, এবং ইটালির বাণিজ্যিক নগরী মিলান লক ডাউন বা বন্ধ রাখা হবে তবে জরুরি ভিত্তিতে কিছু করার প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় হতে পারে।

এছাড়া ১৪ টা প্রদেশের মধ্যে ভেনিস, পারমা এবং মোদেনা বন্ধ থাকবে যার ফলে এক কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলবে।

প্রধানমন্ত্রী জিউসেপে কন্টি বলেছেন, যেসব প্রদেশ আক্রান্ত হয়েছে তার মধ্যে মোদেনা, পারমা, পিয়াসেনজা, রেজ্জিও এমিলিয়া, রিমিনি, পেসারো এবং আরবিনো, আলেসান্দ্রিয়া, অ্যাসটি, নোভারা, ভারবানো কিউসিও ওসোলা, ভারসেই, পাদুয়া, ট্রেভিসো এবং ভেনিস।

এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারের মত মানুষ উত্তর ইটালিতে কোয়ারেন্টিনে রয়েছে।

 

কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?

  • বিয়ের অনুষ্ঠান ও শেষকৃত্যসহ ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থগিত।
  • সিনেমা, নাইট-ক্লাব, ব্যায়ামাগার, সুইমিং পুল, যাদুঘর এবং স্কি রিসোর্টগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
  • রেস্তোরাঁ এবং ক্যাফে খোলা থাকতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ক্রেতাদেরকে অবশ্যই এক মিটার দূরত্ব রেখে বসতে হবে।
  • মানুষজনদের বলা হবে যাতে করে তারা যতটা সম্ভব ঘরে থাকে।
  • যদি কেউ কোয়ারেন্টিন ভঙ্গ করে তাহলে তাকে তিন মাস জেলে কাটাতে হবে।
  • সব ধরণের খেলাধুলার আসর বন্ধ থাকবে। ইতালির ফুটবল প্লেয়ার ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট সব ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান করেছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতালিকে পরামর্শ দিয়েছে যাতে করে দেশটি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে কঠিন নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই ব্যাপক মাত্রায় কোয়ারেন্টাইন করার পরিকল্পনা চীনও করেছিল। ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে কাজে আসায় ওই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ইতালির প্রথম সারির রাজনীতিবিদ নিকোলা জিঙ্গারেত্তি বলেছেন, শনিবার তিনি টেস্ট করে দেখেছেন তিনি করোনায় আক্রান্ত। মধ্য-বাম ডেমোক্রেটিক পার্টির এই নেতা ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি ভালো আছি। কিন্তু কিছু দিন আমাকে বাড়িতে থাকতে হবে।’ দেশটি বলছে, এই সংকট মোকাবিলায় যেসব ডাক্তার অবসরে গেছেন তাদেরকে আবারও কাজে লাগানো হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য