দিনাজপুর সংবাদাতাঃ উত্তরবঙ্গের রংপুর বিভাগীয় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ কৃষিভিত্তিক অঞ্চল হওয়ায় একসময় এখানকার মানুষ তাদের কৃষিজনিত বিভিন্ন কাজে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তাদের চাহিদা পুরন করতো। সে সময় কৃষির মৌসুম ভেদে এ শিল্পে নিয়োজিতরা ব্যস্ত সময় পার করতো, দেখে মনে হতো তাদের দম ফেলার সময় থাকতো না। মানুষ তাদের দরকারের কয়েকদিন আগ থেকে বাঁশ শিল্পের কারিগরদের কাছে ধর্ন্যা দিত।

বিভিন্নজনের বিভিন্ন ধরণের চাহিদা,সবাই তাদের প্রয়োজনীয় ডালি,কুলা,চালন,চারাইয়া,ধামা, মাছ ধারা খোলোই, ডারকিসহ আরো অনেককিছু তৈরি করে নিতো। আর কারিগররা দিনরাত ক্রেতাদের চাহিদা পুরন করার জন্য কাজ করে যেত। এতে করে পরিশ্রম অনুযায়ী মুনাফাও ভাল পেত।

অনেকেই তাদের ভবিষ্যৎ এর আশায় নিজের ছেলে – মেয়েকে এ পেশায় নিয়োজিত করেছে। সময়ের পরিবর্তনে এ শিল্পের কদর আর আগের মত নাই বলেই চলে। বর্তমানে দেশ উন্নয়নের এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে বিভিন্ন কোম্পানির প্লাস্টিক পণ্য ব্যাপক হারে ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এখন বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহার করছে কম।

বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদা না থাকায় এবং বেশি দামে বাঁশ ক্রেয় করে কম দামে পণ্য বিক্রি করায় মানবেতর জীবন যাপন করছে বাঁশ শিল্পে নিয়োজিত কয়েকশত মানুষ। তারা অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে। উপজেলার ৮নং ভোগনগর ইউনিয়নের কবিরাজহাটে দানিয়াল মৃধা দি, ওয়েট্রাস্ট চার্চ এ চাকুরির পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন বাঁশের কুটির শিল্প।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কয়েকজন বিক্রেতা এসব পণ্য বিক্রি করছে। তাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, একটা সময় আমরা এসব পণ্যের চাহিদা মেটাতে পারতাম না। আমরা বিভিন্ন মৌসুমের আগে মজুদ করে রাখতাম। এখন আর আগের মত চাহিদা নেই, সবাই কম দামে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার করে আসছে। তারা মনে করেন এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে দরকার। কারণ কমদামে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার করলেও সেটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক।

বীরগঞ্জ পৌর হাটখোলায় একটি দোকানের মধ্যে কয়েকজনকে বসে কাজ করতে দেখা গেছে। তারাও বলছে একই কথা এসব শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য