ব্যস্ত জীবনযাত্রা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে প্রতিটি মানুষের খাদ্যাভ্যাস। সকালের নাস্তা না খাওয়া, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, অতিরিক্ত ‘ক্যাফেইন’ যুক্ত পানীয় পান ইত্যাদি অসংখ্য বাজে খাদ্যাভ্যাস পাকস্থলির উপর যেন নির্যাতন চালাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

যারা ‘ডেস্ক জব’ করছেন তাদের প্রতিদিন একটা লম্বা সময় কাটছে চেয়ারে বসে। যাদের জীবনযাত্রা ব্যস্ত নয়, তারাও কম যান না। শুয়ে বসেই অলস সময় পার করছেন, খাওয়ার কোনো নিয়ম নেই। তার সঙ্গে ধূমপান কিংবা মদ্যপান তো আরও ক্ষতিকর।

এই ধ্বংসাত্বক জীবনযাত্রার নানান ক্ষতিকর দিকের একটি হল বুক জ্বালাপোড়া ও অম্লভাব বা ‘অ্যাসিডিটি’।

চিকিৎসা-বিজ্ঞানের সঙ্গানুসারে স্বাস্থবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকস্থলিতে থাকা ‘গ্যাস্ট্রিক’ গ্রন্থিগুলো থেকে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসৃত হলে এই অম্লভাব দেখা দেয়। আর এর কারণে বুকের নিচের অংশে হতে পারে জ্বালাপোড়া।

এই অম্লভাব ও বুক জ্বালাপোড়া সারানোর ওষুধ হল ‘অ্যান্টাসিড’ যা সবার ঘরেই থাকে, অনেকে তা সবসময় সঙ্গেই রাখেন। ওষুধগুলো পাওয়াও সহজ, দোকানে গিয়ে চাইলেই মেলে, দামও কম। ফলে যারা প্রায়ই এই সমস্যায় আক্রান্ত হন, তারা ওষুধ সঙ্গেই রাখেন, আর সামান্য অস্বস্তি হলেই ওষুধ খেয়ে ফেলেন। আর এখানেই বিপত্তি।

ক্যান্সারের ঝুঁকি

বহুল ব্যবহৃত রেনিটিডিন গ্রুপের ওষুধে একটি উপাদান ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, তাই কয়েকটি কোম্পানি তাদের রেনিটিডিন জাতীয় ওষুধ প্রত্যাহার করেছে

কারণ, আন্তর্জাতিক ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ইউএস এফডিএ’ এই গ্রুপের ওষুধে ‘এন-নাইট্রোসোডিমিথাইলামিন (এনডিএমএ)’ নামক এক উপাদানের অস্তিত্ব খুঁজে পায়।

‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি)’ এই উপাদানকে মানুষের ক্ষেত্রে ক্যান্সারের জন্য সম্ভবত দায়ী বলে দাবী করে।

ভারতের ‘ড্রাগ রেগুরেটর’ এই ধরনের ওষুধে থাকা কোনো রাসায়নিক উপাদান ক্যান্সারের কারণ হতে পারে কিনা তা পর্যবেক্ষণের আদেশ জারি করেছে।

বাজার থেকে এই ওষুধ নিষিদ্ধ করা না হলেও চিকিৎসক ও রোগী দুপক্ষকেই এই ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে।

কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে সিবিসি ডট সিএ’তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, রেনিডিন গ্রুপের ওষুধে স্বল্প মাত্রায় ‘এনডিএমএ’য়ের উপস্থিতি রয়েছে।

তাই হুটহাট করে অ্যান্টাসিড ধরনের ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরমার্শ নেওয়া উচিত।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য