ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো উপকূলে নোঙর করতে না দেওয়া প্রমোদতরীর ২১ যাত্রীর দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে লাখ ছাড়িয়েছে।

শুক্রবার পর্যন্ত ৯০টিরও বেশি দেশে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ব্যক্তির খোঁজ মিলেছে; মৃতের সংখ্যা তিন হাজার চারশ।

সর্বশেষ ভ্যাটিকান সিটি, সার্বিয়া, স্লোভাকিয়া, পেরু ও টোগোর কর্তৃপক্ষও তাদের দেশে কভিড-১৯ এর উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

সান ফ্রান্সিসকো উপকূলের কাছে নজরদারিতে রাখা প্রমোদতরী গ্র্যান্ড প্রিন্সেসকে অনির্ধারিত এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত নয় এমন কোনো বন্দরে নিয়ে গিয়ে এর দুই হাজার ৪০০ যাত্রী ও এক হাজার ১০০ ক্রু’র দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি পরীক্ষা করা হবে বলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স জানিয়েছেন।

“যাদের কোয়ারেন্টিন করে রাখা দরকার পড়বে, তাদের কোয়ারেন্টিন করা হবে। যাদের অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সেবা প্রয়োজন হবে, তাদেরও তা দেওয়া হবে,” হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেছেন পেন্স।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে এরই মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে; দেশটিতে কভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যা ১৫তে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা ও করোনাভাইরাস শনাক্তে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরীক্ষা কিট নিশ্চিতে ৮৩০ কোটি ডলারের তহবিল অনুমোদন করেছেন।

প্রথম দিকে চীনের উহানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব প্রকট আকার ধারণ করলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেখানে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমে আসছে।

এখন চীনের বাইরে বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও ইরানে ভাইরাসটির বিস্তৃতি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ইতালিতে একদিনেই ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে কভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যা ১৯৭তে পৌঁছেছে।

ইরান ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হাজারেরও বেশি মানুষের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত করেছে। দেশটিতে এ নভেল করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২৪ এ দাঁড়িয়েছে।

শনিবার দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৭৬৭ বলে জানিয়েছে।

ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। গণপরিবহনে যাতায়াত, উৎসব ও ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

সুরক্ষা উপকরণের সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দেশে দেশে মাস্কের ব্যবহার ও পরিচ্ছন্নতা উপকরণের বিক্রিও বেড়ে গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য