দিনাজপুর সংবাদাতাঃ আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে শুরু হয়েছে নানা রোগ। দিনে গরম আর রাতে ঠান্ডা চলছে। এ ধরণের আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত রোগের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ রোগীরদের সাথে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের সংখ্যা। বিশেষ করে কয়েক দিনের ব্যবধানে শুধু মাত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু রোগী বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ৫৫০ বিভিন্ন রোগের রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সতর্ক এবং সচেতন থাকার পরামর্শ প্রদান করছেন চিকিৎসকরা।

বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহে ৫০ শয্যা হাসপাতালে শুধু মাত্র শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৪০ শতাংশ। দিনের বেলা প্রচন্ড তাপ দাহের শেষে রাতে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধির সাথে সাথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্দি, কাশি,জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া,জন্ডিস সহ ঠান্ডাজনিত নানারোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার ৯নং সাাতোর ইউনিয়নের প্রাণনগর গ্রামের রহিমা বেগম জানান, তাঁর এক বছর বয়সী মেয়ে খাদিজা ঠান্ডাজনিত সমস্যায় গত তিন দিন ধরে পল্লী চিকিৎসকের দোকান থেকে ওষুধ কিনে খাইয়েছি। কিন্তু এতে খুব বেশি উপকার হয়নি। যে কারণে মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য এসেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা,মোঃ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন,হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ার ফলে হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

মূলত বিগত সপ্তাহখানেক ধরে হাসপাতালে বৃদ্ধ ও শিশু রোগীদের সংখ্যা অনেকাংশ বেড়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া প্রকোপ তেমন একটা না থাকলেও শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশিতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে তাঁরা। তিনি অভিভাবকদের শিশুদের প্রতি যত্নবান হওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা: মোঃ আনোয়ার ইসলাম বলেন, ঠান্ডা বাতাস ফুসফুসে গেলে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা ঠান্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।

এ ক্ষেত্রে শিশুদের পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্যও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা, মোঃ আনোয়ার উল্ল্যাহ জানান, আবহাওয়া পরিবর্তজনিত কারণে আগের তুলনায় হাসপাতালের আউটডোর ও ইনডোরে শিশু রোগী অনেকাংশ বেড়েছে। তবে ভয় পাবার কিছু নেই। এজন্য অভিভাবকদের শতভাগ সচেতন ও সতর্ক হতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য