জ্বর-ঠাণ্ডা-কাশি ছাড়াও ছড়াতে পারে হেপাটাইটিস-বি’সহ নানান ধরনের রোগ।

ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লেও- আরেকজন যে অসুস্থ হয়ে পড়বে না সেটা কিন্তু নিশ্চিত নয়। কারণ স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘাম থেকেও ছড়ায় জীবাণু।

এমআরএসএ: ‘মেথিসিলিন-রেজিসট্যান্ট স্টাফিলোকোকাস অরিয়াস’-কে সংক্ষেপে বলা হয় এমআরএসএ। এই জীবাণু দেহের বিভিন্ন অঙ্গে দুরারোগ্য ব্যধির জন্য দায়ী। বেশিরভাগ প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক এর উপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনা। এই জীবাণুর সংক্রমণে শরীরে ব্যথা, ত্বকে ফোস্কা পড়া ইত্যাদি হতে পারে। এমনকি রক্তপ্রবাহ, ফুসফুস এবং মূত্রনালীতে প্রদাহ সৃষ্টির পেছনেও দায়ী। জীবাণুটি অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে।

হেপাটাইটস বি ভাইরাস: বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, ঘামের মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে বলে দাবি করা হয় গবেষণায়। সাধারণত খোলা্ ক্ষতস্থান ও মিউকাস ঝিল্লির মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ছড়ায়। তবে অলিম্পিল কুস্তিগীরদের উপর করা এক গবেষণায় দেখা যায়, ১১ শতাংশ অংশগ্রহণকারীদের ঘামে এই ভাইরাস রয়েছে, যার পরিমাণ রক্তে থাকা ভাইরাসের সমান। ‘ব্রিটিশ জার্নাল অফ স্পোর্টস মেডিসিন’য়ে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়।

ভাইরাস থেকে সর্দি-কাশি: ঘামে এই ভাইরাস না থাকলেও হাঁচি, নাক ডলা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ত্বকের উপরে আসতে পারে। ফলে ঘাম হলে তা ভাইরাস বাহকে পরিণত হবে। আর এই অবস্থায় কোনো সুস্থ ব্যক্তির গায়ে ওই ঘাম লাগলে তার শরীরেও ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।

ইম্পিটিগো: ফুস্কুড়িওয়ালা ছোঁয়াচে এই চর্মরোগে শিশুদের প্রায়ই আক্রান্ত হতে দেখা যায়। শরীরে ফোস্কা পড়া, লাল ছোপ তৈরি হওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। ‘স্টাফিলোকোকাস ওরিয়াস’ ভাইরাসের সংক্রমণেও এই রোগ হতে পারে। যা ঘামের মাধ্যমে ছড়ায়।

হার্পিজ: এই যৌনরোগ ঘামের মতো প্রত্যক্ষ উপায়ে হার্পিস ছড়ানো সম্ভব কিনা তা নিয়েও বিতর্ক আছে। কিছু গবেষণা দাবি করে, ত্বকের স্পর্শের মাধ্যমে ‘এইচএসভি-ওয়ান’ ও ‘এইচএসভি-টু’ সংক্রমিত হয়। আবার অন্য গবেষণা বলে, এই ভাইরাস সংক্রমিত হতে চাই দীর্ঘমেয়াদী সংস্পর্শ এবং ঘর্ষণ।

হেপাটাইটিস-এ, হেপাটাইটিস-সি ও এইডস’য়ের ভাইরাস ঘাম, খাবার, হাঁচি-কাশি ইত্যাদির মাধ্যমে সংক্রমিত হয় না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য