বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তারের প্রেক্ষাপটে ফেইস মাস্ক, গ্লাভস আর প্রোটেকটিভ গাউনের মতো সুরক্ষা উপকরণের সঙ্কটের বিষয়ে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

আতঙ্কের কারণে বিভিন্ন দেশে এসব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার ও কোম্পানিগুলোকে উৎপাদনের পরিমাণ ৪০ শতাংশ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস।

দুই মাস আগে চীনের উহান থেকে ছড়াতে শুরু করা নভেল করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যে ৩ হাজার ২০০ ছাড়িয়ে গেছে; আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৯৩ হাজারে।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে থমকে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতি যাতে আরেকটি মন্দার কবলে না পড়ে, সেজন্য সুদের হার নামিয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ। বিমান পরিবহন, পর্যটন ও ভারী শিল্প খাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তার জন্য ১২ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।

নানারকম বিধিনিষেধ আরোপ করেও চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের বিস্তারের গতি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০টি দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবর এসেছে।

সার্স ও মার্স পরিবারের সদস্য নতুন এ করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ফ্লুর মত উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯। এখ পর্যন্ত এ রোগে মৃত্যুহার ৩.৪ শতাংশ, যেখানে মৌসুমি ফ্লুতে মৃত্যুহার থাকে ১ শতাংশের নিচে।

ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক মঙ্গলবার জেনিভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এখনও নভেল করোনাভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক তৈরি করা যায়নি, তবে এ রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

কিন্তু করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কে সুরক্ষা উপকরণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় যেভাবে দাম বাড়ছে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তেদ্রোস গেব্রিয়েসাস।

তিনি জানান, এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে সার্জিকাল মাস্কের দাম বেড়ে ছয়গুণ হয়েছে, এন৯৫ মাস্কের দাম বেড়ে হয়েছে তিনগুণ। আর প্রোটেকটিভ গাউনের জন্য আগের চেয়ে দ্বিগুণ অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখন যে অবস্থায় রয়েছে, তাতে প্রতি মাসে ৮ কোটি ৯০ লাখ মাস্ক, ৭ কোটি ৬০ লাখ গ্লাভস এবং ১৬ লাখ জোড়া গগলস প্রয়োজন।

প্রাণঘাতী এ ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকায় গত ৩১ জানুয়ারি বৈশ্বিক সতর্কতা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরপর ২৮ ফেব্র্রুয়ারি জারি করা হয় সর্বোচ্চ সতর্কতা।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন সোমবার দেশটির মূল ভূখণ্ডে আরও ৩৮ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে। তাতে চীনের মূল ভূখণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৮১ জনে। আর বিশ্বে নতুন করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ২০০ জন।

সব মিলিয়ে বিশ্বে ৯২ হাজার ৮৬২ জনের নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে এ পর্যন্ত, এর মধ্যে ১২ হাজার ৫৯২ জন সংক্রমিত হয়েছেন চীনের বাইরে।

চীনের বাইরে সংক্রমণের ৮০ শতাংশের বেশি ঘটনা ঘটেছে ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও জাপানে। এর মধ্যে ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ৫২ জন থেকে বেড়ে মঙ্গলবার ৭৯ জন হয়েছে। ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৭ জন।

এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩২ জন, জাপানে ১২ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ৯ জন, ফ্রান্সে ৪ জন, হংকংয়ে ২ জন এবং ফিলিপিন্স, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া ও থাইল্যান্ডে একজন মনে মারা গেছেন নভেল করোনাভাইরাসে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য