যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে শক্তিশালী দুই টর্নেডোর আঘাতে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছে বলে অঙ্গরাজ্যটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার আঘাত হানা এ টর্নোডেগুলো টেনেসির কেন্দ্রস্থল ও এর আশপাশের এলাকা তছনছ করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় এ অঙ্গরাজ্যটির সবচেয়ে বড় শহর ন্যাশভিলের অসংখ্য বাড়ি ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টর্নেডোটি মধ্যরাতের পর আঘাত হানায় এবং দ্রুত অগ্রসর হওয়ায় ঘুমন্ত অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতেও পারেননি বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গরাজ্যটি পরিদর্শনে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

টেনেসির গভর্নর উইলিয়াম লি মঙ্গলবার টর্নেডোতে ২৫ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এখনও অনেকে নিখোঁজ থাকায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা তার।

টর্নেডো ন্যাশভিলকে ‘যুদ্ধক্ষেত্রের মতো’ অবস্থায় পরিণত করেছে বলে শহরটির এক বাসিন্দা জানিয়েছেন।

ডেভিড হাসকেল ও তার স্ত্রী জানান, ফোনে টর্নেডোর জরুরি সংকেত পেয়ে তারা দৌড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান।

“দশ সেকেন্ড পরেই বাড়িটি যেন বিস্ফোরিত হল,” স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন হাসকেল।

ন্যাশভিলের ১৩০ কিলোমিটার পূর্বের পুটনাম কাউন্টি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; এখানেই ১৯টি মৃতদেহ মিলেছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

উইলসন কাউন্টিতে ৩ জন, ডেভিডসন কাউন্টিতে ২ জন এবং বেন্টন থেকেও একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ন্যাশভিলের মেয়র জন কুপার বাসিন্দাদেরকে প্রতিবেশীদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ করেছেন।

প্রায় দেড়শ আহতকে স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, বলেছেন তিনি।

“উদ্ধার অভিযান চলছে,” বলেছেন টেনেসির ইমার্জেন্সি কমিউনিটি রিলেশনস কর্মকর্তা ম্যাগি হান্নান।

টর্নেডো শহরের প্রায় ৪৪ হাজার বাসিন্দাকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে ন্যাশভিল ইলেকট্রিক।

‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে জন সি টিউন বিমানবন্দরেরও। অনেক এলাকার গ্যাস সংযোগ বিঘ্নিত হয়েছে।

ন্যাশভিলের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আদালত এবং পরিবহন সেবাও মঙ্গলবার বন্ধ রাখা হয়েছে বলে শহরটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য