বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। সবশেষ চীনে মারা আরো ৪২ জন মারা গেছে।

শতকরা ৯০ ভাগ মৃত্যুই হয়েছে চীনের হুবেই প্রদেশে যেখানে ভাইরাসটির গত প্রথম আবির্ভাব ঘটেছিল।

এছাড়া আরো ১০টি দেশেও প্রাণহানি হয়েছে। যার মধ্যে ইরানে ৫০ জন এবং ইতালিতে ৩০ জন মারা গেছে।

বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ। বর্তমানে চীনের অভ্যন্তরের তুলনায় চীনের বাইরের দেশগুলোতে সংক্রমণ দ্রুত হারে বেড়ে চলেছে।

বিশ্ব পরিস্থিতি কী?

সারাবিশ্বে সংক্রমণের সংখ্যা বেশ বেড়েছে, তবে চীনে এই হার কমেছে।

ইউরোপের হটস্পট বা সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের মুখে থাকা ইতালিতে গত ৪৮ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। রোববার এ খবর জানিয়েছেন দেশটির বেসামরিক সুরক্ষা বিভাগের প্রধান।

দেশটিতে অন্তত ৩৪ জন মারা গেছে এবং ১৬৯৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। আমাজন জানিয়েছে, ইতালিতে থাকা তাদের দুই কর্মী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে এবং তাদেরকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে জরুরি কোবরা বৈঠক ডাকা হয়েছে যেটি সোমবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে “কোন কিছুর পরোয়া করবে না” কর্তৃপক্ষ। ভাইরাসে দেশটিতে এখনো পর্যন্ত ১৩ জন আক্রান্ত হয়েছে।

চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাস সংক্রমণ থাকা দেশ দক্ষিণ কোরিয়া সোমবার জানিয়েছে যে, ৪৭৬ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। এনিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪২১২ জনে।

এর মধ্যে ৩০৮১ জন দক্ষিণ কোরিয়ার দায়েগু শহরে আক্রান্ত হয়েছে- এর মধ্যে ৭৩% আক্রান্তের ঘটনার সাথে শিনচিওঞ্জি গির্জার যোগসূত্র রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে যে, ওই খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা একে অন্যকে আক্রান্ত করেছে এবং পরে তারা প্রায় অ-শনাক্ত অবস্থাতেই দেশটির বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজধানী সোলের শহরটির এক কোটি বাসিন্দাকে বাড়িতে থেকেই কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

করোনাভাইরাস আক্রান্ত বিশ্বের অন্যতম দেশ ইরান বলেছে যে, দেশটিতে ৯৭৮ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং ৫৪ জন মারা গেছে। চলতি সপ্তাহেই কাতার, ইকুয়েডর, লুক্সেমবার্গ এবং আয়ারল্যান্ড তাদের দেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী থাকার কথা নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কেও একজন আক্রান্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রতি ইরান সফরের পর ৩০ এর কোটায় থাকা ওই নারী আক্রান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৫০ এর কোটায় থাকা একজন মারা গেছেন। তবে তার অন্য আরো স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল বলে জানা যায়।

চীনের অবস্থা কী?

সোমবার চীন জানিয়েছে যে দেশটিতে আরো ৪২ জন মারা গেছে যারা সবাই হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা ছিল। নতুন করে আরো ২০২ জন আক্রান্ত হয়েছে যাদের মধ্যে মাত্র ৬ জন হুবেই এর বাইরের বাসিন্দা।

চীনের অভ্যন্তরে এ নিয়ে ২৯১২ জন মারা গেলো এবং ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের মুখপাত্র বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হবে “আবারো কাজ শুরু হওয়ার পর আক্রান্তের যে ঝুঁকি বাড়বে” তা নিয়ন্ত্রণে রাখা।

চীনের অর্থনীতি বেশ ভালোভাবেই ধাক্কা খেয়েছে- রেকর্ড হারে কারখানার কাজকর্ম ও উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা বলেছে, ভাইরাসের কারণে চীনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে স্থিরতা এসেছে তার কারণে চলতি বছর দূষণের হার নাটকীয়ভাবে কমেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কী বলছে?

রোববার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ভাইরাসটি মূলত তাদেরকেই বেশি আক্রান্ত করছে যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি এবং যারা ইতিমধ্যেই অসুস্থ।

বেশিরভাগ রোগীর উপসর্গই মৃদু এবং মৃত্যুহার ২% থেকে ৫% এর মাঝামাঝি।

চীনের ৪৪ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রথম বড় আকারে যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, মধ্য বয়সীদের তুলনায় বয়ো-বৃদ্ধদের মধ্যে মৃত্যুহার ১০ গুণ বেশি।

মৌসুমী ফ্লু-তে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুহার মাত্র ০.১% হলেও তা ব্যাপক মাত্রায় সংক্রামক। বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় চার লাখ মানুষ ফ্লু-তে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

করোনাভাইরাসের অন্য দুটি সংক্রমণ যেমন সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম-সার্স এবং মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম-মার্স এ মৃত্যুহার এর চেয়ে বেশি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য