যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন গত বছরের শেষদিকে সঙ্গী ক্যারি সাইমন্ডসের সঙ্গে বাগদানে আবদ্ধ হয়েছেন এবং এ যুগল তাদের প্রথম সন্তানের জন্য অপেক্ষা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে সাইমন্ডস নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

নিজেকে ‘অবিশ্বাস্যরকম আশীর্বাদধন্য’ বলেও অ্যাখ্যা দিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এ নারী।

৫৫ বছর বয়সী জনসন ও সাইমন্ডস গত বছর ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে আস্তানা গেড়েছিলেন। তারাই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এ সরকারি বাসভবনে থাকা প্রথম অবিবাহিত যুগল।

সাইমন্ডস ১৭৪ বছরের মধ্যে ডাউনিং স্ট্রিটে থাকা কোনো প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে কমবয়সী সঙ্গীও।

নিজের ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “অনেকেই আপনারা এরই মধ্যে জেনে গেছেন, কিন্তু আমার যে বন্ধুরা এখনও জানেনি, তাদের বলছি- গত বছরের শেষদিকে আমাদের বাগদান হয়েছে। আমরা এখন গ্রীষ্মের শুরুতেই সন্তানের প্রতীক্ষা করছি। অবিশ্বাস্যরকম আশীর্বাদধন্য মনে হচ্ছে নিজেকে।”

সাইমন্ডসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক গাঁটছড়া বাধলে এটা হবে জনসনের তৃতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি মেরিনা হুইলারকে বিয়ে করেছিলেন।

চার সন্তানের জনক-জননী জনসন ও হুইলার ফেব্রুয়ারিতে আদালতের এক শুনানিতে অর্থকড়ি সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছানো পর বিচ্ছেদের প্রস্তুতি শুরুর কথা জানিয়েছিলেন।

১৯৯৩ সালে বিয়ে করা এ দু’জন ২০১৮ সাল থেকে আলাদা থাকছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২০১৯ সালের শুরুর দিকে কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক কমিউনিকেশন প্রধান সাইমন্ডস ও জনসনের মন দেয়া নেয়া শুরু হয়।

২০১২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে লন্ডনের মেয়র হতে চালানো জনসনের সফল প্রচারণার সময় সাইমন্ডস জনসনের হয়ে কাজ করেছিলেন।

২০১৮ সালে টোরিদের কাছ থেকে সরে যাওয়া ৩১ বছর বয়সী এ নারী এখন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ওশেনিয়ার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের সূত্রে গতমাসে যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানো সাজিদ জাভিদ টুইটারে সাইমন্ডস-জনসন যুগলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এ দুজনের বাগদানের খবরকে ‘চমৎকার খবর’ বলেও অভিহিত করেছন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইমন্ডস ও জনসনকে অভিনন্দন জানানো প্রথম কয়েকজনের তালিকায় স্কটল্যান্ডের কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক শীর্ষ নেতা রুথ ডেভিডসনও আছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

খালি বাগদানই নয়, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর নতুন সন্তান নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

এর আগে টনি ব্লেয়ার ও ডেভিড ক্যামেরনও ডাউনিং স্ট্রিটে থাকাকালে বাবা হয়েছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য