নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে দশটিরও বেশি দেশের লাখ লাখ শিশুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে আছে।

প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে চীনজুড়ে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, এতে দেশটির প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ শিশু ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

একমাত্র অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া সব মহাদেশে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার ও আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

নতুন এ করোনাভাইরাসটিতে মৃত ও আক্রান্তদের অধিকাংশই চীনের নাগরিক। গত বছরের শেষ দিনে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে প্রথম প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি শনাক্ত হয়।

তারপর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের ৫৩টি দেশে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

২৯ ফেব্রুয়ারি চীনের মূলভূখণ্ডে নতুন করে আরও ৫৭৩ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। আগের দিনের ৪২৭ জনের তুলনায় এ দিন নতুন আক্রান্তে সংখ্যা ফের বৃদ্ধি পায়। গত এক সপ্তাহে এক দিনে নতুন আক্রান্তের এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা বলে রোববার জানিয়েছে চীনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

এ দিন নতুন আক্রান্তের ঘটনা মূলত উহানেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই শহরটিকেই নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের উৎসস্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শনিবার এ শহরটিতে নতুন করে ৫৬৫ জনের দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত হয় এবং এর বাইরে হুবেই প্রদেশজুড়ে আরও ৫ জন নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হন।

এ দিন হুবেইয়ের বাইরে আক্রান্তে সংখ্যা মাত্র ৩ জনে নেমে আসে। কভিড-১৯ রোগে ভুগে চীনের বাইরে এ পর্যন্ত ১০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চীনসহ বিশ্বজুড়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৯৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

নতুন আক্রান্তদের নিয়ে চীনের করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৭৯ হাজার ৮২৪ জনে দাঁড়িয়েছে আর চীনের বাইরে আক্রান্তে সংখ্যা ৬ হাজার ৬৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। সবমিলিয়ে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৬ হাজার ৫০০ বলে জানিয়েছে সিএনএন।

চীনের স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, মূলভূখণ্ডে আক্রান্তদের মধ্যে ৪১ হাজার ৬২৫ জন রোগী সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এ সংখ্যাটি মোট আক্রান্তের ৫২ শতাংশ। তবে সুস্থ বলে ছাড়পত্র পাওয়া লোকজনও ফের আক্রান্ত হতে পারেন বলে সতর্ক করেছেন দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা দক্ষিণ কোরিয়ায়। এখানে নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩৭৬ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫২৬ জন।

দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র।

ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে ইতালি ও ইরান, প্রাদুর্ভাব ছড়ানোর নতুন উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতালিতে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ১২৮ জনে এবং মৃতের সংখ্যা ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখানে আক্রান্তদের ১০ শতাংশ চিকিৎসা কর্মী।

ইতালি থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এবং দক্ষিণ আমেরিকায় ভাইরাসটি ছড়িয়েছে।

ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯৩ জনে এবং মৃতের সংখ্যা ৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনের বাইরে ইরানেই কভিড-১৯ রোগে সবচেয়ে বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে। এখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১০টি দেশে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য