আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাটঃ তিস্তা এখন মরা খাল। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় সেচ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে ৪৬ হাজার হেক্টর জমি। এই ৪৬ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে বাড়তি ব্যয় হবে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। শুকনো মৌসুমে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প সূত্রে জানাগেছে, ২০১৯ সালে ২৯ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও পানি সরবরাহ করা হয়েছে ৪০ হাজার হেক্টরে। এরপরও ৪৩ হাজার হেক্টর জমি সেচ-সুবিধার বাইরে ছিল। ২০১৪ সালে বোরো মৌসুমে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল । কিন্তু সেচ দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে সেচ দেওয়া হয় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে। ২০১৭ সালে মাত্র ৮ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ হাজার হেক্টরে দাঁড়ায়। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেচ দিলে কৃষকদের হেক্টর প্রতি বাড়তি খরচ হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা। সে হিসেবে ৪৩ হাজার হেক্টরে কৃষকদের বাড়তি খরচ পড়বে প্রায় ৬৫ কোটি টাকার।

তিস্তা এখন মরা খাল বাড়তি ব্যয় হবে ৬৫ কোটি -Dinajpur, Dinajpur news, দিনাজপুর, দিনাজপুর নিউজ, বাংলা, বাংলানিউজ bangle, banglanews, Rangpur District, Kurigram District, Panchagarh District, Nilphamari District, Gaibandha District, Thakurgaon District, Lalmonirhat District, রংপুর জেলা, কুড়িগ্রাম জেলা, পঞ্চগড় জেলা, নীলফামারী জেলা, গাইবান্ধা জেলা, ঠাকুরগাঁও জেলা, লালমনিরহাট জেলা Bangladesh, বাংলাদেশ I+জানা গেছে, তিস্তা অববাহিকার ৫ হাজার ৪২৭টি গ্রামের মানুষ জীবিকার জন্য এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। তাই তিস্তার পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় এখানকার মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। তিস্তা অববাহিকার ৮ হাজার ৫১ বর্গকিলোমিটার এলাকা ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল। সমতল ভূমিতে তিস্তা অববাহিকা ৪ হাজার ১০৮ বর্গকিলোমিটার। তার প্রায় অর্ধেক অংশ পড়েছে বাংলাদেশের সীমানায়। দুই দেশই তিস্তার পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন সময়ে নদীর ওপর ও আশপাশে ব্যাপক অবকাঠামো তৈরি করেছে। ভারত জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সেচ কার্যক্রমের জন্য তিস্তার পানি ব্যবহার করছে।

সূত্র জানায়, ভারত ৬৮ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ৫ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমির সেচের চাহিদা মিটিয়ে যে পরিমাণ পানি ছাড়ে, তা দিয়ে বোরো মৌসুমে আমাদের দেশে সেচ চাহিদার অর্ধেকও পূরণ হয় না। ১৯৯৭ সালে বাংলদেশে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানি প্রবাহ ছিল প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কিউসেক। তা ২০০৬ সালে নেমে আসে ১ হাজার ৩৪৮ কিউসেকে। ২০১৯ সালে পানি প্রবাহ ছিল মাত্র ৭০০ কিউসেক। ১৯৯৩-৯৪ শস্য বছর থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১২টি উপজেলায় ব্যাপকভাবে আউশ ও আমন উৎপাদনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিস্তার পানি দিয়ে সেচ কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৬-০৭ শস্য বছর থেকে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বোরো মৌসুমেও সেচ কার্যক্রম সমপ্রসারিত হয়।

আমন মৌসুমে মোট সেচযোগ্য ৭৯ হাজার ৩৭৯ হেক্টর এলাকার প্রায় পুরোটাই সেচের আওতায় আনা সম্ভব হলেও বোরোর ক্ষেত্রে পানির দুষ্প্রাপ্যতায় সেচ-সাফল্যের চিত্র একেবারেই হতাশাজনক। শুকনো মৌসুমে ভারতের পানি প্রত্যাহারের পর তিস্তা নদীতে যে সামান্য পানি পাওয়া যায়, তার সবটুকুই সেচ চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের সেচ খালের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারাজের পর থেকে ৯৭ কিলোমিটার বিস্তৃত তিস্তা নদীতে পানিও থাকছে না। এ কারণে তিস্তা অববাহিকার বাংলাদেশ অংশের এই বিশাল পরিমাণ নদীগর্ভ পরিণত হচ্ছে বালুচরে। ফলে শুকনো মৌসুমে এভাবেই নদী আধমরা হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, একসময় সেখানে ছিল জনপদ, আগে প্রচুর ভুট্টার আবাদ হলেও এখন আর হচ্ছে না। বর্তমানে বালু চরে পরীক্ষামূলক চিনাবাদাম,মিষ্টি কুমড়া ও তরমুজ চাষ করছেন কৃষকরা।

তিস্তাপাড়ের জেলে আমজাদ আলী জানান, তিস্তায় পানি না থাকায় হামার বড় কষ্ট, মাছ-আর ধরতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে জীবন যাপন করছি।

তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প সমপ্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী জানান, চলতি রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে ২৫ জানুয়ারি থেকে সেচ দেওয়া শুরু হয়। শুরুতে সেচ দেওয়া হয় জলঢাকা উপজেলায়। পরবর্তীকালে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সেচ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। উজানে পানি প্রবাহ দিন দিন কমায় তিস্তা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে তিস্তা ব্যারাজের কিছু এলাকায় সম্পূরক সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এবার এসব এলাকায় কৃষকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেচ দিতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য