ডিজিটাল যুগে ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নিয়ে নিজের চিকিৎসা নিজেই করলে ঘটতে পারে বিপত্তি।

প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আর হাতের কাছে ইন্টারনেট থাকায় যেকোনো সময় যেকোনো তথ্যই সহজলভ্য।

এর অসংখ্য ভালো দিকের মধ্যে খারাপ দিকও আছে। আর তা হল সামান্য তথ্য নিয়েই নিজেদের বিশেষজ্ঞ ভেবে বসি। ফলে সামান্য অসুস্থতা অনুভূত হলে অনেকেই নিজের উপসর্গ নিয়ে ইন্টারনেটে গবেষণা শুরু করে দেন।

জ্ঞান আহরণের আগ্রহ ভালো। তবে বুঝতে হবে ইন্টারনেটের সীমাহীন তথ্যের সবকিছুই আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

যে ওয়েবসাইট থেকেই তথ্য নেওয়া হোক না কেনো, সেগুলো নিজের ওপর ফলানো কখনই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

তথ্যগুলো ভুল না হলেও সম্পর্কীত অনেক বিষয় না জানার কারণে সেগুলো ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে এখানে জানানো হল নিজেই নিজের চিকিৎসা করতে বসলে কী কী কুফল ডেকে আনতে পারে।

ভুল রোগ নির্ণয়: একটি রোগ নির্ণয়ের মধ্যে কয়েকটি ধাপ থাকে এবং সেগুলো যথেষ্ঠ জটিল। একজন চিকিৎসকের এই কাজ যখন নিজে করবেন তখন ভুল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

কারণ পরিচিত উপসর্গগুলোই চোখে পড়বে আগে। তবে একটি উপসর্গ অনেক সমস্যার দিকে ইঙ্গিত দিতে পারে।

যেমন- প্রচণ্ড পানির পিপাষা পেয়েছে। এই উপসর্গ থেকে মনে হতে পারে পানিশূন্যতার কারণে এরকম দেখা দিয়েছে। তবে অতিরিক্ত পানির পিপাষা ডায়াবেটিসেরও পূর্বাভাস।

লক্ষণের ভুল ইঙ্গিত: কিছু উপসর্গের ধরন এমন হয় যে তা প্রকৃত রোগের তুলনায় সম্পুর্ণ ভিন্ন ধরনের রোগের দিকে ইঙ্গিত দেয়। এই অবস্থায় নিজেই রোগ নির্ণয় করা মারাত্বক বিপদ ডেকে আনতে পারে।

যেমন- মানসিক ভারসাম্যহীনতার উপসর্গগুলো। ‘হাইপারথাইরয়েডিজম’, ‘মাইগ্রেইন’, বিশেষ কোনো ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা এবং অনিয়মত হৃদস্পন্দন ইত্যাদির কারণে দেখা দেওয়া উপসর্গগুলো মানসিক ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত দেয়।

অ্যাসপিরিন: অতিরিক্ত ‘অ্যাসপিরিন’ বা ব্যথানাশক ধরনের ওষুধ সেবনের কারণে পাকস্থলিতে রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে। তাই এই ধরনের ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনই খাওয়া উচিত নয়।

যাদের ‘হার্ট অ্যাটাক’ এবং ‘স্ট্রোক’ করার সম্ভাবনা বেশি থাকে তাদেরকে ‘অ্যাসপিরিন’ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অপরদিকে কিছু মানুষের শরীরে এই ধরনের ওষুধ কোনো প্রভাবই ফেলতে পারে না।

বিশেষ কিছু ওষুধ নিজেই বন্ধ করে দেওয়া: অনেকসময় সুস্থ হয়ে গেছেন মনে করে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন অনেকেই। ফলে হিতে বিপরীত হতে দেখা যায় প্রায়শই।

বিশেষ করে ‘অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি’ বা মানসিক অস্বস্তি দূর করার ওষুধের ক্ষেত্রে এটি বেশি প্রযোজ্য।

চিকিৎসকের পরামর্শে যারা দীর্ঘদিন এই ধরনের ওষুধ সেবন করছেন তারা যদি হঠাৎ খাওয়া বন্ধ করে দেয় তবে দেখা দিতে পারে মারাত্বক বিপত্তি।

নতুন সংক্রমণে পুরানো অ্যান্টিবায়োটিক: ছোটখাট পোড়া কিংবা কাটাছড়ার ক্ষেত্রে এই ঘটনা বিশেষভাবে প্রযোজ্য। এমন দুর্ঘটনায় ঘরে থাকা পুরানো ‘অ্যান্টি-বায়োটিক’ ব্যবহার করেন প্রায় সকলেই।

ভুলভাল ‘অ্যান্টি-বায়োটিক’ খাওয়ার কারণে শরীরের গড়ে উঠতে পারে এমন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া যা ‘অ্যান্টিবায়োটিক’ সহ্য করতে পারে।

এই অবস্থায় ওষুধ সেবনের পরও সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

ফার্মেসি থেকে ইচ্ছেমতো ওষুধ কিনে খাওয়া: সর্দি, জ্বর, মাথাব্যথা ইত্যাদি সামান্য রোগে পড়লে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন আছে এমনটা অনেকেই ভাবেন না। বরং ফার্মেসিতে গিয়ে মনের মতো ওষুধ কিনে এনে খেতে থাকেন।

বেশিরভাগ সময় এই পদ্ধতিতে প্রয়োজন মিটে গেলেও একবার হিতে বিপরীত হলেই ভয়ঙ্কর বিপদে পড়ে যেতে পারেন।

যাদের নিয়মিত কোনো ওষুধ খেতে হয় তারা যদি এমন কোনো ওষুধ খেয়ে বসেন যা তাদের পুরনো ওষুধের সঙ্গে বিপরীত বিক্রিয়া করে তবেই বাঁধবে বিপত্তি। ছোট রোগ সারাতে গিয়ে বড় রোগ বেঁধে বসতে পারে।

জ্বরের চিকিৎসায় ডাররিয়ার ওষুধ: ডায়রিয়ার উপসর্গের সঙ্গে যদি জ্বর আসে এবং মলের সঙ্গে যদি রক্ত কিংবা ‘মিউকাস’ নিসৃত হয় তবে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। নিজের মনে ডায়রিয়ার ওষুধ খাবেন না।

কারণ এই উপসর্গ হতে পারে সংক্রমণের পুর্বাভাস। আর ভুল ওষুধ খেলে ঘটতে পারে মারাত্বক বিপত্তি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য