ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সিরিয়ার ইদলিবের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে তৃতীয় একটি মহলের পক্ষ থেকে সিরিয়া বিষয়ে আস্তানা বৈঠকের সাফল্যকে ম্লান করে দেয়ার চেষ্টার নিন্দা জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এ বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, আস্তানা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইরান মনে করে এ ধরনের বৈঠক সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করা, বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি এড়ানো এবং বিরাজমান রাজনৈতিক মতপার্থক্য নিরসনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, আমেরিকা দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে এ অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং সিরিয়ার তেল সম্পদ লুটপাট করার জন্যই তারা সেদেশে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে যার কারণে সংকট আরো তীব্রতর হয়েছে।

এদিকে, ইদলিবে আইএস সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর হামলায় তুরস্ক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং সিরিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে। এরই মধ্যে তুরস্কের সেনাবাহিনী ইদলিবে সিরিয়ার সেনা অবস্থানে কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে এবং তুর্কি সেনারা সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে, সিরিয়ার সেনাবাহিনী ইদলিব প্রদেশে সন্ত্রাসীদের কয়েকটি ঘাঁটি দখল করেছে এবং তুর্কি সেনাদের সঙ্গেও তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইদলিবে সিরিয়া ও রাশিয়ার যৌথ বিমান হামলায় তুরস্কের ৩৪ সেনা নিহত হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান হুমকি দিয়েছিলেন, আস্তানা ও সুচি সম্মেলনে যে সমঝোতাকে উপেক্ষা করে তুর্কি সেনাদের ওপর হামলা চালানো হলে তারাও সিরিয়ার সেনাদের ওপর হামলা চালাবে।

আঙ্কারা-দামেস্ক সংকট বর্তমানে নজিরবিহীন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে এবং নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে তুরস্কের প্রতি আমেরিকার সমর্থন বিষয়টিকে আরো জটিল করে তুলেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ন্যাটো জোটের সদস্য হিসেবে তুরস্কের প্রতি আমাদের সমর্থন বজায় থাকবে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ইদলিব সংকটের ব্যাপারে তুরস্কের প্রতি আরো জোরালো ও সর্বাত্মক সমর্থন দেয়ার বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকা সিরিয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টির পাশাপাশি রাজনৈতিক উপায়ে সিরিয়া সংকট নিরসনের চেষ্টাকেও বানচাল করার চেষ্টা করছে। লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওয়াফিক ইব্রাহিম বলেছেন, পাঁচ বছর আগে তুরস্কের সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে ইদলিবে সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশ ঘটে সে সময় আমেরিকা তাদের দিকে একটি গুলিও ছোঁড়েনি কারণ সিরিয়ার মোকাবেলায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তুরস্কের জোটের প্রতি মার্কিন সমর্থন ছিল।

তাই বর্তমান স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে আলোচনাই উত্তেজনা নিরসনের একমাত্র উপায় হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য