সংবাদ সম্মেলনঃ ডা: মানিক হোসেন(দন্ত চিকিৎসক)কে সারারাত পৈচাশিক নির্যাতন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসনোর প্রতিবাদে সন্ত্রাসী ও দাদন-ব্যাবসায়ী শহিদুলকে গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবীতে দিনাজপুরে সংবাদ সম্মেলন এবং মানববন্ধন করেছে স্থানীয় গ্রামবাসীরা।

ডা: মানিক হোসেন(দন্ত চিকিতসক)কে নির্যাতনের প্রতিবাতে এবং সন্ত্রাসী দাদনব্যাাবসায়ী শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার ও কোঠর শাস্তির দাবীতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে পৈচাশিক নির্যাতনের নির্মমতা তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নির্যাতনের শিকার ডা: মানিক হোসেনের স্ত্রী সামসুন নাহার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,বালুয়ডাঙ্গা-হঠাতপাড়া এলাকার সন্ত্রাসীদের গডফাদার ও দাদন-ব্যবসায়ী মো: শহিদুল ইসলাম তার স্বামী ডা: মানিক হোসেনকে চিকিতসার নামে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ২০ ফেব্রয়ারী রাত ৮টায় তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তারা ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। মানিক তাদের দাবীকৃত চাঁদার ২ লাখ টাকা দিতে অস্বীকার করায় সন্ত্রাসী শহিদুল ইসলাম,মো: বাপ্পি,মো: সুইট,মো: ববিসহ অজ্ঞাতরা ডা: মানিককে ঘরের ভিতরে আটকে রেখে সারারাত ধরে পৈচাশিক ও নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছে। এরপর সন্ত্রাসী শহিদুল ২১ ফেব্রয়ারী সকাল সাড়ে ১১ টায় আমার স্বামীর মোবাইল থেকে আমাকে ডেকে ওই টাকা দাবী করে নইলে আমার স্বামীকে মেরে ফেলে লাশগুমের হুমকি দেয়। আমিও টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা আরো ভয়ংকর নির্যাতন শুরু করে।

তিনি জানান, তারা মানিকের মুখে কাপড় গুজে দিয়ে সারারাত ধাপে ধাপে মধ্যযুগীয় কায়দায় এলোপাতারি কিলঘুষি মেরে একটি চোখ নষ্ট করেছে ও লোহার রড দ্বারা পিটিয়ে সারা শরীর জখম করেছে, এতেও তারা ক্ষেন্ত হয়নি প্লাস দ্বারা পায়ের নখ পর্যন্ত তুলে ফেলেছে। পরে তারাই আবার পুলিশের ৯৯৯-এ মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশ ডেকে মিথ্যা সাজানো মামলায় ফাঁসিয়ে আহত অবস্থায় ডা: মানিককে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তিনি জানান,পুলিশ আহতবস্থায় চালন দিলে আমরা আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্ত করে তাকে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিতসার জন্যে ভর্ত্তি করিয়েছি। আমাদের প্রশ্ন পুলিশ কেন তাদেরকে আটক না করে অন্যায় ভাবে পিটিয়ে আহত করা একজন মূর্মূষ মানুষকে তাদের হেফাজতে নিয়ে চালান দিলো।

অথচ আমি শহিদুল ইসলামের কুর্কীর্তি ও বর্বোরোচিত নিষ্ঠুরতার বিষয়ে গত ২২ ফেব্রয়ারী একটি অভিযোগ কোতয়ালী থানায় দায়ের করলেও সে ব্যাপারে মামলা গ্রহন কিংবা আসামী আটকের বিষয়ে পুলিশী কোন ততপরতা এখনো দেখছি না।

আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের গডফাদার ও দাদনব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তির দাবী করছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শফিকুল ইসলাম,সিদ্দিকুর রহমান,আসেকুল ইসলাম ও মাহফুজা আক্তারসহ স্থানীয় শতাধিক গ্রামবাসী।

পরে তারা প্রেসক্লাবের সন্মুখ সড়কে শহিদুল ইসলামসহ তার সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবীতে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য