আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ ২৮ ফেব্রুয়ারী। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ট্রাজেডির ৭ বছর পূর্তি হলেও জামায়াত-শিবিরের নাশকতামূলক তান্ডবের বিচার কাজ শেষ হয়নি।

বিভিন্ন সূতে জানা যায়, গত ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী আর্ন্তজাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দেলওয়ার হুসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উপজেলায় ব্যাপক নারকীয় তান্ডব চালায় জামাত-শিবির।

এতে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ৪ পুলিশ সদস্য নিহত হন। এ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উক্ত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রসহ উপজেলার অধিকাংশ স্থানে জামায়াত-শিবির-কর্মীরাদের নাশকতমূলক তান্ডব চালাতে থাকে।

এ তান্ডবের শিকার হয়ে ১ জিআরপি সদস্যসহ নিহত ৪ পুলিশ সদস্যরা হলেন- জেলার সাঘাটা উপজেলার খামার ধনরুহা গ্রামের নাজিম উদ্দিন, রংপুরের পীরগাছা উপজেলার রহমতেরচর গ্রামের তোজাম্মেল হক, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার কিশামত গোবধা গ্রামের হযরত আলী ও বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ঠাকুরপাড়া গ্রামের বাবলু মিয়া।

জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সেদিন তান্ডব চালিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি, রেলওয়ে স্টেশন, ইউএনও’র বাসভবন, স্বাধীনতাকামী পরিবারসহ বিভিন্ন স্থানে। তাদের হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুরের কবলে পরে মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতা পক্ষের ও সাধারণ মানুষজনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আবাসস্থল, রাস্তা-ঘাট, গাছপালার ব্যপক ক্ষতিসাধন করে।

এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক আবু হানিফ বাদী হয়ে সাবেক জোট সরকার (জামায়াত)’র এমপি ও যুদ্ধ অপরাধ মামলায় আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী মাওলানা আব্দুল আজিজ ওরফে ঘোড়ামারা আজিজকে প্রধান আসামী করে ৮৯ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাত নামা আরো ২ হাজার ৫শ’ জনের বিরিদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এরপর ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধান আসামী আজিজসহ ২শ’ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশীট দাখিল করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এখন বিচারের রায় ঘোষণার অপেক্ষামাত্র। উল্লেখ্য, ঐ দিনের নাশকতা তান্ডবে আরও বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য