রক্ষণাবেক্ষণে আর অবহেলার অভাবে ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার প্রাচীন গোরকই আশ্রম ও দুর্গা ও শিব মন্দির।

দায়িত্বে থাকা লোকজনের অবহেলার কারণে মন্দিরটির ভিতরে এখন গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণ। সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত মেলার সময় কদর বাড়ে মন্দিরটির। অন্য সময়ে খোঁজ খবর রাখেন না উপজেলা প্রশাসনের লোকজন কিংবা মন্দির পরিচালনা কমিটির কেউই।

এবছরে ১৯ ফেব্রুয়ারী মেলা শুরু হয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারী শেষ হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন জেলার মানুষের ঢল নেমেছিল। উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দুরে নেকমরদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গোরকই গ্রামে অবস্থিত এ প্রাচীন মন্দিরটি।

মন্দিরটির নির্মাণ কবে হয়েছিল এবং মন্দিরটির আসল মালিকানা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা নেই কারোই। “তবে মন্দিরের গেটে লেখা বর্ণনায় দেখা গেছে, গুপ্ত যুগ থেকে সেন যুগের মধ্যেই কুপ ও মন্দির নির্মিত হয়েছিল এবং নাথ সহজিয়া মতের গুরু গোরাক্ষ নাথের নামানুসারে কুপ ও স্থানের নাম হয়েছে গোরকই।

রাণীশংকৈলের ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে গোরক্ষনাথ শিব মন্দির -Dinajpur, Dinajpur news, দিনাজপুর, দিনাজপুর নিউজ, বাংলা, বাংলানিউজ bangle, banglanews, Rangpur District, Kurigram District, Panchagarh District, Nilphamari District, Gaibandha District, Thakurgaon District, Lalmonirhat District, রংপুর জেলা, কুড়িগ্রাম জেলা, পঞ্চগড় জেলা, নীলফামারী জেলা, গাইবান্ধা জেলা, ঠাকুরগাঁও জেলা, লালমনিরহাট জেলা Bangladesh, বাংলাদেশ I+গরকই ফকিরি স্লান বা বারুনীর মেলা হিসেবে আজও সমান ভাবে সমাদৃত। এতদ্ব অঞ্চলের মানুষের কাছে এটি একটি তীর্থ স্থাণ। ফাল্গুনের শিব চতুর্দশী তিথীতে পূণ্য স্নানের জন্য আগমন ঘটে অসংখ্য পূণ্যার্থীর। ”স্থানীয়দের সাথে বলে জানা গেছে, ভারত থেকে আসা গোরক্ষনাথ নামে এক ঠাকুর এই এলাকায় বসবাস করছিলেন। তার নামানুসারে গ্রামের ও মন্দিরের নামকরণ হয় গোরকই।

তবে মন্দিরের দেখাশুনা গোরক্ষনাথ ঠাকুর করলেও মন্দির তিনিই নির্মাণ করেন নি, রাতারাতি দেবতারা পাথর দিয়ে মন্দিরটি নির্মাণ করেন বলে স্থানীয়দের ধারণা। যদিও এ তথ্যগুলোর সঠিক দলিলাদি নেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মন্দিরটি ছাড়াও এখানে রয়েছে নাথআশ্রম। ৩টি শিবমন্দির, ১টি কালি মন্দির। গোরক্ষনাথ মন্দির চত্বরের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত।

তার পিছনেই সেই আকর্ষনী কুপ। পাথরের তৈরী একটি চৌবাচ্চার মাঝে ওই কুপের অবস্থান। কুপটি বড় বড় কালো পাথরের খন্ড দ্বারা নির্মিত। কুপের একেবারে তলা পর্যন্ত ওই পাথর দিয়ে বাধানো। কুপের পূর্ব দিকে একটি দরজা এবং পশ্চিম দিকে একটি দরজা। এ দুটো দরজা দিয়ে স্নানের জন্য প্রবেশ করে পুর্ণার্থীরা। এছাড়াও মন্দিরের দক্ষিণ পার্শ্বে দুজন পুজারীর সমাধি রয়েছে।

ঠাকুর গৌরক্ষনাথের মৃত্যুর পর ওই দুজন পূজারী মন্দিরের দেখাশুনা করাকালীন তাদের মৃত্যুহলে মন্দিরের পার্শ্বেই তাদের সমাধি স্থাপন করা হয়। এ দুজন পূজারীর নামও সঠিক জানা নেই কারো। মেলা পরিচালনা কমিটি জানায়, প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের আমাবশ্যায় এই মন্দিরে ৭ দিন ব্যাপী মেলার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও মন্দির পরিচালনা কমিটি। মেলার সময় এ কুপের পানিতে স্নান করতে আসে দেশের বিভিন্ন জেলার ভক্তরা। বিভিন্ন মানত করে পরিবার পরিজনসহ আসেন এই মন্দিরে। পূজা ও স্নান শেষে আবার পুনরায় ফিরে যান বাড়ীতে।

রাণীশংকৈলের ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে গোরক্ষনাথ শিব মন্দির -Dinajpur, Dinajpur news, দিনাজপুর, দিনাজপুর নিউজ, বাংলা, বাংলানিউজ bangle, banglanews, Rangpur District, Kurigram District, Panchagarh District, Nilphamari District, Gaibandha District, Thakurgaon District, Lalmonirhat District, রংপুর জেলা, কুড়িগ্রাম জেলা, পঞ্চগড় জেলা, নীলফামারী জেলা, গাইবান্ধা জেলা, ঠাকুরগাঁও জেলা, লালমনিরহাট জেলা Bangladesh, বাংলাদেশ I+তবে অনেকের আশা পুরণ হলে মন্দিরে এসে পুনরায় পূজা এবং মানত করা ছাগল, হাস, মুরগিসহ নানা জিনিসপত্র দিয়ে যান। এই এলাকার জিসকেল টুডু জানান, হাজার হাজার নারী পুরুষ স্নান করার পরও এ কুপের পানি এক ইঞ্চিও কমে না। যা কুপের বৈশিষ্ট্য মনে করে পূর্ণাথীরা। মন্দিরটিতে গ্রানাইট পাথরের ব্যবহার করা হয়েছে। যে পাথর বর্তমানে দিনাজপুর জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

কথিত আছে, গৌরক্ষনাথ ছিলেন নাথপন্থীদের ধর্মীয় নেতা খীননাথের শিষ্য। মন্দিরটির সামনের দোকানদার সত্যজিত রায় জানায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মন্দির দর্শনার্থীরা এসে মন্দিরের বেহাল দশা দেখে চলে যান। বসার,খাওয়ার স্থান নেই, এমনকি নেই যাতায়াতের ভাল একটি রাস্তা। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় আসতেই মানুষ ভয় পাই। মন্দিরের পার্শ্বের বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ দশ বছরে এলাকার দুই সাংসদ যাতায়াতের জন্য রাস্তা পাকা করণের অঙ্গীকার করে গেলেও এ পর্যন্ত একটি ইটও বরাদ্দ দেননি তারা।

তাছাড়া প্রাচীন এই মন্দিরটিতে এখন পর্যন্ত নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। উপজেলা প্রশাসন প্রতিবছর একটি সৌর বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেয়। কিছুদিন পরই তা চুরি হয়ে যায়। মেলা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পসিন চন্দ্র জানান, মন্দিরটি ২৪ ঘন্টা দেখাশুনা করার জন্য একজন পুজারী ছিল। তিনি কয়েকদিন আগে চলে গেছেন। খুব শ্রীঘ্রই মন্দির পরিস্কার পরিছন্ন এবং দেখাশুনা করার জন্য একজন পূজারী নিয়োগ দেয়া হবে।

তবে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মন্দির দর্শণে আসা মানুষ এবং ভক্তদের জন্য বসার স্থান, খাওয়ার জন্য ভালো হোটেল এবং আবাসিক ভবন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, এ মন্দিরের নিজস্ব মালিকানায় প্রায় ২৪ বিঘা জমি, একটি আম ও জাম বাগান এবং একটি বড় পুকুর রয়েছে। যা প্রায় দেড় লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। মেলায় প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয় আসে।

দুটো আয় দিয়ে চলতি বছরই সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ মন্দিরে নানা উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে মন্দিরের সম্পত্তি অনেকেই অবৈধভাবে দখল করে আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মন্দির পরিচালনা কমিটি কিংবা উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার অবগত করলেও সেদিকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের।

নেকমরদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনামুল হক মন্দির সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমি আফরিদা বলেন, মেলা পরিচালনা কমিটি যাবতীয় দেখাশুনার দায়িত্বে রয়েছে মন্দিরের। তাছাড়া তাদের দেয়া চাহিদা অনুযায়ী মন্দিরের উন্নয়নের জন্য একটি পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট অধিদফতরে প্রেরণ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য