চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া সব মহাদেশে, বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবে গত দুই মাসে অন্তত ২ হাজার ৮০০ মানুষের প্রাণ গেছে, এদের মধ্যে ২ হাজার ৭৪৪ জন মারা গেছে চীনের মূলভূখণ্ডে।

দিন যতই যাচ্ছে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ক্রমেই একটি বৈশ্বিক মহামারীর রূপ নিচ্ছে। প্রথমবারের মতো একদিনে চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা চীনের ভিতরে আক্রান্তের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে বলে বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে।

বুধবার চীনে নতুন করে ৪৩৩ জন নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন। এ দিন আক্রান্তে সংখ্যা আগের দিনের ৪০৬ জনের তুলনায় একটু বেড়েছে।

এতে চীনের মূলভূখণ্ডে করোনাভাইরাস আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৭৮ হাজার ৪৯৭ জনে দাঁড়িয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এ দিন দেশটিতে আরও ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি ২৮ জানুয়ারির পর চীনে করোনাভাইরাসে একদিনে সবচেয়ে কম মৃত্যুর সংখ্যা। এর আগের দিন দেশটিতে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এসব নিয়ে দেশটিতে করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ এ মোট মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৭৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের উৎস হুবেই প্রদেশে এ দিন নতুন করে ৪০৯ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে চীনে অপর তিন জনের মৃত্যু হয়েছে রাজধানী বেইজিং এবং হেইলংজিয়াং ও হেনান প্রদেশে। হুবেইয়ের বাইরে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২৪ জন।

এই ভাইরাসটি এখন চীনের বাইরে প্রায় ৫০টি দেশে ছড়িয়েছে এবং এসব দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনের বাইরে মৃতের সংখ্যা ৫৮-তে পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা এখন দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটিতে এ পর্যন্ত এক হাজার ৭৬৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন ও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার নতুন আক্রান্তের সংখ্যায় দেশটি চীনকে ছাড়িয়ে যায়। এ দিন এখানে ৫০৫ জন নতুন করে আক্রান্ত হন।

দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এক সদস্যও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

এশিয়ার বাইরে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে ইতালিতে। বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ছিল অন্তত ৪০০। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ ইতালি এক লাখ লোককে কোয়ারেন্টিন করেছে বলে জানা গেছে। দেশটিতে ভাইরাস আক্রান্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ইরানে তুলনামূলক কম লোক আক্রান্ত হলেও চীনের পর এ দেশটিতেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত ১৩৯ জন ছিল এবং মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের।

এর পাশাপাশি জাপানে ৮ জন, হংকং ও ফ্রান্সে দুই জন করে এবং তাইওয়ানে একজন ও ফিলিপিন্সে অপর একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার নতুন দেশ হিসেবে ব্রাজিল, পাকিস্তান, নরওয়ে, গ্রিস, রোমানিয়া, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, জর্জিয়া, নর্থ মেসেডোনিয়া ও আলজেরিয়ায় ভাইরাসটি ছড়িয়েছে। উত্তর ইতালি থেকে ব্রাজিলে ফেরা একজনের দেহে ভাইরাসটি শনাক্তের পর একমাত্র অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া বিশ্বের সব মহাদেশে ভাইরাসটির উপস্থিতি রেকর্ড হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য