balikaমোঃ লিহাজ উদ্দীন মানিক, বোদা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে বোদা পৌরসভার উত্তর পুর্বকোণে এশিয়ান হাইওয়ের সর্দারপাড়া গ্রামে বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি অবস্থিত। বোদা উপজেলাকে শিক্ষা দীক্ষায় এগিয়ে নিতে এলাকার কিছু উদ্দমী শিক্ষিত যুবক ও এলাকার শিক্ষানুরাগীদের সহযোগিতায় ১৯৯৮ সালের সর্দারপাড়া নি¤œমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। নিজেদের অর্থায়নে টিনের ঘর ও বাঁশের বেড়া  দিয়ে সর্ব প্রথম ১০০ জন ছাত্রী নিয়ে বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এর ছাত্রী সংখ্যা ৩০০ জন পেরিয়েছে। লেখাপড়ার মান সন্তোষজনক হওয়ায় বিদ্যালটি উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তীর্ণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা ১০ জন। ২০১৩ সালে জেএসসি পরীক্ষায়  ছাত্রীরা শতভাগ পাশ করে বিদ্যালয়টি অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ২০১৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সকল ছাত্রীরা পাশ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বাবুল হোসেন। বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত না হওয়ার পরও শিক্ষিক/শিক্ষিকারা বিনা বেতনে ছাত্রীদের নিরলস ভাবে ক্লাস পরিচালনা করে আসছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্রীদের সংগীত, নাচ-গান, নাটক, শারীরিক কসরত ইত্যাদি প্রশিক্ষণ দিয়ে যুগোপযোগি শিক্ষার সাথে তাল মিলিয়ে সর্দারপাড়া বালিকা বিদ্যালয়টি এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারি সকল দিবসে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা অংশ গ্রহন করে সাফল্য অজন করে আসছে। খোজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গরীব মেধাবী ছাত্রীদের নিজের অর্থায়নে পরীক্ষার ফরম পুরন করেন থাকেন। ২০১৩ সালের জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীণ ছাত্রী শ্যামলী রানী জানান, আমার বাবা সুইপার, মা অন্যের বাড়িতে বুয়ার কাজ করে। এমন অবস্থার মধ্যে আমার লেখাপড়া অনিশ্চিত, তখন  হেড স্যার আমাকে নিজের অর্থায়নে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন দেয়। আমি ৩.৮০ জিপিএ পেয়ে উত্তীণ হই। আমি হেড সার সহ সকল শিক্ষকদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা রাত কয়টা পর্যন্ত পড়াশুনা করেন প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষক/শিক্ষিকাগণ রাত্রের বেলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদারকী করেন। জে,এস,সি এবং এস,এস,সি পরীক্ষাথীদের বিনা টাকায় অতিরিক্ত ক্লাস করান এবং সপ্তাহে ৩ দিন পরীক্ষা নেন। এ জন্য ছাত্রীদের কাছে কোন পরীক্ষা ফ্রি গ্রহন করা হয় না। যেখানে দেশে জম-জমাট কোচিং ও প্রাইভেট ব্যবসা চলছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ বাবুল হোসেন কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, আমার বিদ্যালয়ের বেশীর ভাগ ছাত্রীরা গরীব, ঝড়ে পড়া, আমি চাই এই গরীব ও ঝড়ে পড়া মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে মেয়েদের শিক্ষার প্রসার ঘটাতে। কারণ মা শিক্ষিত হলে জাতি শিক্ষিত হবে। দীর্ঘদিন থেকে বিল বেতন নাই এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশায় আছি, দেখা যাক, গাছ লাগালে পরিচর্যা করলে, একদিন না একদিন, ফুল ফুটবে, ফল ধরবে, এটাই প্রকৃতির অঘোম নিয়ম। এত বছর হয়ে গেলে আশা ছাড়েননি কেন এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, যতদিন বেচে আছি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শ্রম দিয়ে যাব নারী শিক্ষার প্রসারে ও প্রচারে। এ অঞ্চলের শ্রমজীবি গরীব মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে তাদের মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে বেচে থাকতে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়টি টিনে চালা আর বাঁশের বেড়া দিয়ে কক্ষগুলোতে গাদাগাদী করে ক্লাশ করছে ছাত্রীরা। বাঁশের বেড়া আর দরজা জানালাগুলো ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম। বিদ্যালয়টি দীঘদিন থেকে সংস্কার করা হয়নি। বিদ্যালয়টিকে সংস্কার করে এমপিও ভুক্ত করার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার, শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষক করেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা,ছাত্রী,অভিভাবক সহ এলাকাবাসী। একটি সুন্দর স্বপ্ন, একটি স্বপ্নীল পৃথিবী, একটি সোনালী আগামী গড়ার প্রত্যয়ে যে উদ্দীপ্ত বাসনা নিয়ে শিক্ষক/শিক্ষিকা ও এলাকাবাসীর সামগ্রীক প্রচেষ্টা যেন ব্যার্থ না হয়। যাতে বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হয়ে  সকল আশা ও প্রত্যাশার  অবসান হয় এই কামনা সকলের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য