আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ সরকার প্রাথমিক শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে দাবি করছে। এরপর অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকলেও শিক্ষক সংকট রয়েছে। কোথাও বা রয়েছে অবকাঠামো বা ভবন সংকট।

এসব কারণে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে প্রায়ই গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। কিন্তু গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ৩ শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে একটি ভবনসহ খেলার মাঠ। বিদ্যালয়টি নিয়মিত ক্লাস না হলেও চতুর্থ শ্রেণীতে একজন এবং দ্বিতীয় শ্রেণীতে দুইজন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৭৩ সালে উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের তেকানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। শুরুতেই বেশিকিছু শিক্ষার্থী নিয়ে চলে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এতে কর্মরত রয়েছেন প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন।

বুধবার দুপুরে বিদ্যালয়টিতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির সবগুলো ক্লাস ফাঁকা। একটি মাত্র ক্লাস রুমে শিক্ষার্থীর দু’টি ব্যাগ দেখা গেলেও কোন শিক্ষার্থীর দেখা মেলেনি। তখন বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক খাতিজা খাতুন অফিস রুমে ছিলেন। পরে তাকে প্রধান শিক্ষকের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান চলে গেছেন। পরে ওই সহকারি শিক্ষকের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষকের মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি ভাব এবং দম্ভের সহিত দাড়িয়ে থেকে কোন উত্তর দিতে নারাজ।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়টিতে প্রতিষ্ঠা কালীন সময় হতে বেশকিছু শিক্ষার্থী দিয়ে পাঠদান দিয়ে আসছিল। কিন্তু বর্তমান প্রধন শিক্ষক নরুজল ইসলাম এবং সহকারি শিক্ষক খাতিজা খাতুনের আচারনের কারণেই শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ে গিয়ে ভর্তি হয়েছে।

এদিকে, বিদ্যালয়টিতে সরকারি বিভিন্ন খাতের বরাদ্দের ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকার কাজ না করার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের উপর।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) একেএম আব্দুস সালাম জানান, বিদ্যালয়টি বিলুপ্তির জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য